![]() |
| দিলমা রুসেফ |
ব্রাজিলে
চাপের মুখে পড়া প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ সম্ভাব্য অভিশংসন থেকে রক্ষা পেতে
শেষ চেষ্টা হিসেবে আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গতকাল রোববার পর্যন্ত
অভিশংসনের পক্ষে প্রয়োজনীয়সংখ্যক আইনপ্রণেতার সমর্থন আছে বলেই মনে করা
হচ্ছিল। প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করা হবে কি না, তা নিয়ে লাতিন আমেরিকার
বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশে আইনসভার নিম্নকক্ষে গতকালই ভোট হওয়ার কথা। এই
নিয়ে দেশটিতে রুসেফের পক্ষ-বিপক্ষের দুই দলের মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার
আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল কংগ্রেস ভবনের বাইরে রুসেফের পক্ষের ও বিপক্ষের
লোকজন জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে
অপসারণের জন্য অভিশংসন করতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের ৫১৩টির মধ্যে ৩৪২টি
আসনের ভোট দরকার। গতকাল পর্যন্ত মনে করা হচ্ছিল, ৩৪৮ জন আইনপ্রণেতাই
অভিশংসনের পক্ষে। প্রস্তাবের পক্ষে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ভোট পড়লে তা উচ্চকক্ষ
বা সিনেটে পাঠানো হবে। ৮১ আসনের সিনেটে যদি প্রস্তাবটি সাধারণ
সংখ্যাগরিষ্ঠতায়ই অনুমোদিত হয়, তবে প্রেসিডেন্টের বিচার-প্রক্রিয়া শুরু
হবে। তখন থেকে ছয় মাস রুসেফ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। এ
সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন। পরে সিনেটে অভিশংসন প্রস্তাব
দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হলে রুসেফকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে স্থায়ীভাবে সরে
দাঁড়াতে হবে। গতকালের ভোটের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হলেও
দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেন। ২০১৪ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার
আগে প্রেসিডেন্ট রুসেফ অবৈধভাবে আর্থিক সাফল্যের ব্যাপারে মিথ্যা হিসাব
দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানির একটি বড়
দুর্নীতিতে তাঁর নাম এসেছে। এ ছাড়া বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধসের জন্যও তাঁর
সরকারকে বিরোধীরা দায়ী করে আসছেন। রুসেফ অভিযোগ অস্বীকার করে অভিশংসনের
ভোটকে ‘অভ্যুত্থান চেষ্টা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, এটা তাঁকে
‘ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র’। এর জন্য রুসেফ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল
তেমেরকে দায়ী করেছেন।

No comments:
Post a Comment