![]() |
| ন্যায়বিচার পাওয়ার আনন্দে কাঁদছেন হিলসবরো ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্বজনেরা |
ওয়ারিংটনের
চেশায়ারে আদালতের বাইরে মানুষগুলো দাঁড়িয়ে আছেন সারিবদ্ধ হয়ে। কারও গলায়
ঝোলানো লিভারপুলের মাফলার, কেউ সেটা দুহাত দিয়ে তুলে ধরেছেন ব্যানারের মতো।
কেউ মৃদু স্বরে গাইছেন—‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন...’, কারও চোখ থেকে
গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রুধারা। এ কান্না দুঃখের, এ কান্না আনন্দেরও তো! এ
কান্না প্রিয়জন হারানোর, এ কান্না সেসব প্রিয়জনের মৃত্যুর ২৭ বছর পর বিচার
পাওয়ার আনন্দের। দীর্ঘদিন যে ট্র্যাজেডিকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে দাবি করা
হচ্ছিল, সেটিকেই ‘বেআইনি হত্যা’ বলে রায় দিয়েছেন ইংল্যান্ডের আদালত।
লিভারপুলের ইতিহাস বলুন কিংবা ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস, অথবা গোটা বিশ্বের
ফুটবল ইতিহাসেই একটা মর্মান্তিক দিন ছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল। শেফিল্ড
ওয়েনেসডে ক্লাবের হিলসবরো স্টেডিয়ামে সেদিন এফএ কাপের সেমিফাইনালে
লিভারপুল-নটিংহাম ফরেস্ট ম্যাচের সময় হুড়োহুড়িতে পদপিষ্ট হয়ে মারা
গিয়েছিলেন ৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক। আহত হয়েছিলেন আরও ৭৬৬ জন! দীর্ঘদিন এটাকে
দুর্ঘটনা বলা হলেও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা এর বিচার দাবি করে আসছেন অনেক
দিন ধরে। এ নিয়ে মামলাও হয় ২০১৪ সালে। অবশেষে ইংল্যান্ডের বিচার বিভাগের
ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ তদন্তের পর কাল সেই মামলার রায় দেওয়া হয়। নয় সদস্যের
জুরিবোর্ড ৭-২ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে বলেন, সেদিন নিহত ৯৬ জন মৃত্যু আসলে নিছক
দুর্ঘটনা নয়, এর দায় কর্তৃপক্ষের। আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, পুলিশের
ভুলেই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সেদিন ম্যাচের কমান্ডিং অফিসারের
সিদ্ধান্তের ভুলেই ভেঙে পড়েছিল নিরাপত্তাবেষ্টনী। সেই দায়িত্বে অবহেলার
জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে কি না এবং আনা হলে সেটা কী
প্রক্রিয়ায়, তা এখন বিবেচনা করছে ইংল্যান্ডের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস।
পরবর্তী ধাপগুলো কী হয়, তা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তবে আপাতত দীর্ঘদিন
অপেক্ষার পর ন্যায়বিচার পাওয়ার তৃপ্তি নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের চোখেমুখে।
এটাকে ইংল্যান্ডের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে একটি মাইলফলক বলেও উল্লেখ
করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ‘৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক,
যাঁরা মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তাঁরা আজ দীর্ঘদিন পর ন্যায়বিচার
পেলেন। এ এক ঐতিহাসিক দিন!’

No comments:
Post a Comment