![]() |
| জো হার্ট যে মহাপ্রাচীর! |
শুরু
থেকেই ছিলেন না ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। প্রথমার্ধ শেষে উঠে গেলেন করিম
বেনজেমাও। চোটের কারণে দলের সেরা দুই খেলোয়াড়কে হারিয়ে ধার হারিয়ে
ফেলেছিল রিয়াল। তবে ধার না থাকলেও ভার তো ছিলই। ম্যানচেস্টার সিটি তাদের
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলছে, রিয়াল এই ট্রফি জিতেছেই রেকর্ড
১০ বার। কিন্তু সেই ঐতিহ্যের ভারেও রিয়াল কাটতে পারল না সিটিতে। গোলরক্ষক
জো হার্টের দুর্দান্ত দুটি সেভ ভাসিয়ে রাখল সিটির আশার ভেলা। নিরুত্তাপ
গোলশূন্য ড্রই হলো চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম সেমিফাইনালের প্রথম লেগ।
এবারের আসরে এখন পর্যন্ত ১৬ গোল করা রোনালদো দলের সঙ্গে ম্যানচেস্টার
উড়ে গেলেও তাঁর পুরোনো শহরে মাঠে নামতে পারলেন না। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট
পাওয়া বেনজেমাকেও তুলে নিতে বাধ্য হলেন জিনেদিন জিদান। তারপরও রিয়াল অন্তত
তিনটি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করেছিল। দুবার বাধা হলো হার্টের দুর্দান্ত
রিফ্লেক্স। একবার বাধা হয়ে দাঁড়াল ক্রসবার। বাঁ পায়ের সেভে প্রথমে বাঁচালেন
হার্ট, এরপর একেবারে গোলমুখ থেকে নেওয়া পেপের শট ঠেকালেন বুকে। ওদিকে
বেনজেমার বদলি হিসেবে নামা হেসের হেডার গিয়ে লাগল ক্রসবারে। প্রতিপক্ষের
মাঠ থেকে এই তিন সুযোগের একটিতেও গোল পেলে রিয়াল থাকত দারুণ সুবিধাজনক
অবস্থানে। ফিরতি লেগে বার্নাব্যুতে গিয়ে খেলা। এখনো পাল্লা রিয়ালের দিকেই
হেলে। যদিও কোচ জিদান বলছেন, দুই দলেরই সুযোগ আছে সমান-সমান। রিয়ালের
মাঠে কোনো মতে একটা গোল করতে পারলেই সিটির জন্য সেটি হবে সুবিধার। তখন
১-১ ড্র হলেও সিটি প্রথম সেমিফাইনালটিকে আরও এগিয়ে নিয়ে প্রথম ফাইনালের রূপ
দিয়ে ফেলতে পারবে। হয়তো এ কারণেই প্রথম লেগে একটি গোল না পাওয়াটা বেশি
পোড়াচ্ছে জিদানকে, ‘আমি ম্যাচটা নিয়ে খুশিই। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের কাছে বল
ছিল বেশির ভাগ সময়। বেশ কয়েকটা সুযোগও তৈরি করেছিলাম। আমরা কিছুটা হতাশ
তো বটেই, এই ম্যাচে আমাদের আরও বেশি কিছু পাওনা ছিল। এই ম্যাচের আগে দুই
দলের সম্ভাবনা ছিল ফিফটি–ফিফটি। এখনো তা-ই আছে—ফিফটি-ফিফটি।’ নিজেদের মাঠে
রোনালদো-বেনজেমা দুজনকেই পাবেন বলে আশাবাদী জিদান। সঙ্গে বার্নাব্যুর
সমর্থন তো থাকবেই। সিটি এই চাপ সামলাতে পারবে কি? কোয়ার্টার ফাইনালের
ফিরতি লেগ কিন্তু রিয়ালকে আশাবাদী করে তুলতে পারে, আবারও অমন ক্ষুধা নিয়ে
খেলতে পারলে পৃথিবীর কোনো দলের সাধ্যই নেই রিয়ালকে রোখে। তবে রিয়ালেরই
সাবেক কোচ পেলেগ্রিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, রিয়ালকে তারা ভয় পান না।
পেলেগ্রিনিকে বেশি আশাবাদী করে তুলছে তাঁর দলের অটুট রক্ষণ, ‘আমরা তীব্র
একটা ম্যাচ খেললাম, যেখানে দুর্দান্তভাবে রক্ষণ সামলেছি। এই মৌসুমে আমার
দুর্দান্ত খেলছি। নিজেদের মাঠে খেলছি এই ভঙ্গিতেই আমাদের বার্নাব্যুতে
খেলতে হবে।’ আগামী বুধবার ফিরতি লেগ। এর আগে আজ আরেক সেমিফাইনালের প্রথম
লেগে মুখোমুখি হচ্ছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ।

No comments:
Post a Comment