Monday, April 4, 2016

সোনার বার আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি

প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে ফেরার সময় ব্যাগেজ রুলসের আওতায় ১০০ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণালংকার বিনা শুল্কে আনতে পারেন। এ ছাড়া প্রতি এক ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে ৩ হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার বার বা পিণ্ড আনা যায়। তবে এক ভরি সোনা আমদানি করতে ৩ হাজার টাকা শুল্কের পাশাপাশি ৪ শতাংশ অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট (এটিভি) দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। এভাবে সোনার বার আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করার কারণেই সোনা চোরাচালান বেড়ে গেছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এ জন্য আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যাগেজ রুলস ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে সোনা আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি করেছে সংগঠনটি। তারা বলছে, দাবিটি বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা লাভবান হবেন। অবৈধ ব্যবসাও বন্ধ হবে। এ বিষয়ে সমিতির সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব, ব্যাগেজ রুলসের আওতায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনা শুল্কে ১০০ গ্রামের পরিবর্তে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার আনার সুযোগ দেওয়া। এ ছাড়া ২০০ গ্রাম পর্যন্ত প্রতি এক ভরি সোনার বার আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ৩ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা করা হোক। আর ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতি ভরি সোনার বারের জন্য ১৫০ টাকা শুল্কের বাইরে অন্যান্য কর শূন্য করা উচিত। একই সঙ্গে সোনা আমদানিতে ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন করতে হবে। বর্তমানে সোনা ও রুপার অলংকারের মোট বিক্রয়মূল্যের ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর ভিত্তি ধরে ৫ শতাংশ নিট মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দিতে হয়। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে স্বর্ণালংকারের ওপর মূসক মাত্র ১ শতাংশ। অনেকেই সেখানে গিয়ে স্বর্ণালংকার কিনতে উৎসাহী হচ্ছেন। এতে দেশের জুয়েলার্স শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, এমন যুক্তি দেখিয়ে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জুয়েলার্স সমিতি স্বর্ণালংকার বিক্রির মোট অর্থের ১০ শতাংশ ভিত্তি মূল্য ধরে ১৫ শতাংশ হারে মূসক নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে অমসৃণ ডায়মন্ড বা হিরার শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা হয়। এটি কমানো হলে দেশে হিরার অলংকারের ব্যবসা ও সরকারের রাজস্ব বাড়বে বলছে জুয়েলার্স সমিতি। একই সঙ্গে আগামী বাজেটে মসৃণ হিরা ও হীরকখচিত অলংকার আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানোর দাবি তাদের। বর্তমানে এসব পণ্য আমদানিতে ৬০ থেকে ১৫২ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

No comments:

Post a Comment