Tuesday, April 26, 2016

অর্কেস্ট্রায় বাঁধা যে তরুণীর মনপ্রাণ

এই প্রতিষ্ঠানে অর্কেস্ট্রা শেখান আফগান তরুণী নেগিন
সুরের মূর্ছনা পছন্দ করেন আফগান তরুণী নেগিন খাপালওয়াক। বাদ্যযন্ত্রে বেঁধেছেন মনপ্রাণ। কিন্তু তাঁর দুর্ভাগ্য যে আফগানিস্তানের মতো একটি রক্ষণশীল দেশে জন্মেছেন। তা-ও আবার পশতুন পরিবারে। পশতুন সমাজে নারী তো দূরের কথা, পুরুষদের জন্যও গানবাজনা নিষিদ্ধ। কী করা যায়—ভাবতে ভাবতে সাহস করে নেগিন একদিন চুপিচুপি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শুরু করেন। বাড়িতে কাউকে জানাননি। তবে একদিন বাবা জেনে ফেলেন। উৎসাহও দেন। বাবা উৎসাহ দিলে কী হবে, পরিবারের সবাই বাদ সাধে। কেউ চায় না নেগিন অর্কেস্ট্রা বাজাক। একজন পশতুন নারী কীভাবে অর্কেস্ট্রা বাজাবেন—এই প্রশ্ন তোলে সবাই। পরিবারের চাপে নেগিনের ইচ্ছে আরও বেড়ে যায়। জেদ করে নেগিন ভর্তি হন আফগানিস্তানের জাতীয় সংগীত প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর মিউজিকে। সেখানে ৩৫ নারী পশ্চিমা ও আফগান বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখছেন। নেগিনের জেদে পরিবার বেঁকে বসে। তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হয়। নেগিন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি অনাথ আশ্রমে থাকতে শুরু করেন। একমনে অর্কেস্ট্রা শিখতে থাকেন। এখন নেগিন জোহরা অর্কেস্ট্রা দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নেগিন হারতে চান না। মাঝেমধ্যে তাঁর মনে হয়, তিনি নিরাপদ নন। জঙ্গিরা যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে তাঁর ওপর। কিন্তু যখন অন্যরা নেগিনকে শিল্পী হিসেবে চেনেন, তাঁর অর্কেস্ট্রার প্রশংসা করেন, তখন আনন্দে তাঁর মন ভরে যায়। ২০১০ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর মিউজিক প্রতিষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে সংগীত বিশেষজ্ঞ আহমাদ নাসের সারমাস্ট এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, এটি তাঁর জীবনের একটি সাফল্য। আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের শহর জালালাবাদ থেকে আসা মিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর মিউজিকে আসেন অর্কেস্ট্রা শিখতে। তাঁর মা একজন পুলিশ। মিনা যখন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বের হন, তখন অনেকে কটূক্তি করেন। অর্কেস্ট্রা শেখা মেয়েরা একধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় অর্কেস্ট্রা নিয়ে যেতে হলে নিরাপত্তার কারণে গাড়ি করে যেতে হয়। এসব বাধা পার হয়েই মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছেন স্বপ্ন পূরণ করতে। নেগিন বলেন, অন্য দেশ থেকে আসার মেয়েদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করলে মনে হয় খাঁচার মধ্যে আছেন। কিন্তু তিনি জানেন, এই খাঁচা ভেঙেই একদিন উড়তে পারবেন।

No comments:

Post a Comment