![]() |
| রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে ধসে পড়া বেইলি সেতু। গতকাল সকালে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বগাপাড়া এলাকা থেকে তোলা ছবি |
রাঙামাটি-বান্দরবান
সড়কের বগাপাড়া বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে গত শুক্রবার। এতে বন্ধ হয়ে গেছে
রাঙামাটির সঙ্গে বান্দরবান জেলা এবং রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলায় সরাসরি সড়ক
যোগাযোগ। এ কারণে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইকন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রকল্প প্রকৌশলী
মো. সোলায়মান জানান, কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহকেন্দ্রে
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের কাজ করার জন্য ঢাকা থেকে ৪৫ মেট্রিক টন
ওজনের একটি খননযন্ত্র নেওয়া হচ্ছিল। চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে সমস্যা থাকায়
খননযন্ত্রটি কাপ্তাই সড়ক দিয়ে বেতবুনিয়ায় নেওয়ার সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে।
সেতুর রেলিংয়ের সঙ্গে যন্ত্রটির ধাক্কা লাগায় এটি ভেঙে পড়ে। সড়ক ও জনপথ
(সওজ) বিভাগের রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশীদ জানান, বেইলি
সেতুটি নির্মাণে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তবে সেতু নির্মাণের জন্য আপাতত কোনো
বরাদ্দ নেই। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ও আইকন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকল্প
প্রকৌশলী পৃথকভাবে জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
সঙ্গে আলোচনা চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে খননযন্ত্রটি উদ্ধারের কাজ শুরু হবে।
রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের কাউখালী ও কাপ্তাই উপজেলার সীমানা বগাপাড়া। গতকাল
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ২৫০ ফুট দীর্ঘ বেইলি সেতুটি ভেঙে
পড়ে আছে। কয়েক শ মানুষ হেঁটে ছড়া পার হচ্ছে। রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির
সভাপতি মো. মইনুদ্দিন সেলিম জানান, ওই সড়ক দিয়ে রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই ও
রাজস্থলী উপজেলা এবং বান্দরবান জেলা শহরে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০টি বাস
আসা-যাওয়া করে। কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ও কাপ্তাই উপজেলার বরইছড়িতে
চলাচলকারী অটোরিকশাচালকেরা জানান, তাঁরা প্রতিদিন সাত হাজারের বেশি যাত্রী
আনা-নেওয়া করেন। ঘাগড়া ইউনিয়নের দেওয়ানপাড়ার বাসিন্দা কুমার চাকমা (৩৫)
জানান, খননযন্ত্রটির কোনো যন্ত্রপাতিতে যেন কেউ হাত দিতে না পারে, সে জন্য
তাঁদের কয়েকজনকে আইকন ইঞ্জিনিয়ারিং দায়িত্ব দিয়েছে।

No comments:
Post a Comment