ভারতের
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণ হবে আজ সোমবার।
কলকাতা লাগোয়া হাওড়া ও উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মোট ৪৯টি আসনে ভোট হবে
আজ। ২০১১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনের ফলাফল থেকে বোঝা
যায়, এসব এলাকা শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত দুর্গ। তবে কংগ্রেস ও
বামপন্থীদের জোট হওয়ার পরে তাতে কিছুটা হলেও চিড় ধরার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের সময় এসব এলাকার বহু জায়গাতেই বিরোধী দল
নির্বাচনী বুথে এজেন্ট বসাতে পারেনি। এখন কিন্তু পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন
হয়েছে। সেটা টের পেয়েই মরিয়া শাসক দলের লোকজন আক্রমণ শুরু করেছে বিরোধী
দলগুলোর সমর্থকদের ওপর। আগের পর্বের ভোটের মধ্যেই মুর্শিদাবাদে এক সিপিএম
কর্মীকে কুপিয়ে খুন করা হয়। পরের দুদিন আরও তিনজন সিপিএম-সমর্থক খুন হন। এ
ছাড়া নদীয়া, দুই চব্বিশ পরগনা ও হুগলিতে প্রতিদিনই হিংসার ঘটনা ঘটে চলেছে।
ফলে আশঙ্কা ও আশার মধ্যেই আগামীকাল দুই জেলায় ভোট গ্রহণ হতে চলেছে। তবে
সংবাদমাধ্যমের কড়া সমালোচনার মুখে এখন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও আগের
তুলনায় অনেক সতর্ক। দুই জেলাতেই কয়েক শ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী
মোতায়েন হয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপার এবং বেশ কয়েকটি থানার
ওসিকে বদলি করা হয়েছে। ভোটের জন্য দুই জেলাতেই ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ
চারজনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী উত্তর চব্বিশ
পরগনার গ্রামাঞ্চলেও ঢুকতে শুরু করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেই
বারাসাতের কাছে শাসন এলাকার সব গ্রাম থেকে সিপিএমের কর্মীদের গ্রামছাড়া
করেছিল। কয়েক দিন আগে সেখানে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে আক্রান্ত হন এক
সিপিএম নেতা। উত্তর চব্বিশ পরগনার কামারহাটি কেন্দ্র থেকে এবারও নির্বাচন
প্রার্থী শাসক দলের মদন মিত্র। বর্তমান সরকারের প্রাক্তন এই মন্ত্রী সারদা
চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দুই বছর ধরে কারাগারে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment