![]() |
| পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল অফিস করে বের হন সুচি |
মিয়ানমারে
ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা নেওয়ার দুই
দিনের মাথায়ই দলটির নেত্রী অং সান সু চির ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন সরকারের
সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সু চিকে বিশেষ উপদেষ্টা বানানোর
প্রস্তাব নিয়ে এই মতভেদ দেখা দেয়। গতকাল শুক্রবার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে
সেনাবাহিনীর মনোনীত আইনপ্রণেতারা সু চিকে রাষ্ট্রের বিশেষ উপদেষ্টা বানানোর
পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছেন, এটি সংবিধান লঙ্ঘন করবে। এতে
পার্লামেন্ট, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হবে। গত
বুধবার এনএলডি আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেয়।
সাংবিধানিক বাধার কারণে প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও পররাষ্ট্র, শিক্ষা,
জ্বালানি ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়—এই চারটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান সু
চি। তাঁর ক্ষমতা আরও সংহত করতে বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে সু চিকে বিশেষ
‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ করার বিল তোলা হয়। গতকাল শুক্রবার বিলটি
পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে অনুমোদিত হয়। সু চিকে চার মন্ত্রণালয়ের বাইরে
নতুন উপদেষ্টার দায়িত্ব দিতে ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’ বিলটি পার্লামেন্টের দুই
কক্ষে আলাদাভাবে এবং যৌথ অধিবেশনে অনুমোদিত হতে হবে। পার্লামেন্টে
এনএলডির একচেটিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিল পাসে বাধা না থাকলেও বিষয়টি
নিয়ে সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে বলে মনে করা
হচ্ছে। গতকাল উচ্চকক্ষের অধিবেশনে আলোচনায় সেনাবাহিনীর মনোনীত আইনপ্রণেতা
কর্নেল মাইন্ত সুই এ বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই বিল পাস হলে
প্রেসিডেন্ট এবং উপদেষ্টা সমপর্যায়ে চলে আসবেন।’ তিনি বলেন, ‘এটি সংবিধানের
বিরুদ্ধে যাবে। এ কারণে আমি প্রস্তাবটিকে সংবিধানসম্মতভাবে সংশোধন করার
আহ্বান জানাচ্ছি।’ কর্নেল লা উইন অং নামের সামরিক বাহিনীর আরেক আইনপ্রণেতা
বলেন, এই বিল পার্লামেন্ট, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের বিদ্যমান ক্ষমতার
ভারসাম্য নষ্ট করবে। ‘রাষ্ট্রের উপদেষ্টা বিল’ শিরোনামের ওই বিল অনুযায়ী,
সু চি রাষ্ট্রীয় যেকোনো প্রতিষ্ঠান, বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জনগণের
প্রতিনিধি হিসেবে পরামর্শ দিতে পারবেন। তিনি যে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে
পারবেন। কোনো কোনো পর্যবেক্ষক বলেছিলেন, চারটি মন্ত্রণালয় দেওয়ার মাধ্যমে
সু চিকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে—এমন সমালোচনা যাতে না হয়, তা নিশ্চিত
করতেই তাঁকে নতুন বিশেষ পদটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কোনো
ব্যক্তির স্বামী, স্ত্রী বা সন্তান বিদেশি নাগরিক হলে তিনি মিয়ানমারের
প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না—অতীতের সামরিক সরকার সংবিধানে এমন বিধান রাখায়
সু চি প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।

No comments:
Post a Comment