যুক্তরাষ্ট্রের
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো সন্ত্রাসী
গোষ্ঠীগুলোর ‘পাগলা মানুষদের’ পারমাণবিক অস্ত্র বা ‘ডার্টি বোমা’ অর্জন
রুখতে অধিকতর বেশি সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। ওয়াশিংটনে আয়োজিত পরমাণুবিষয়ক
শীর্ষ সম্মেলনে গতকাল শুক্রবার এ কথা বলেন তিনি। সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ের
মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও আইএস প্রসঙ্গ অন্য সব প্রসঙ্গকে ছাড়িয়ে গেছে। গত
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই সম্মেলন গতকাল শুক্রবার শেষ হয়। প্রায় ৫০টি দেশের
প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সমাপনী দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক
ওবামা এতে ভাষণ দেন। ওবামার ভাষণে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কার্যক্রম ও
ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, আইএসের বিস্তার এবং ইউরোপে জঙ্গি হামলার বিষয়টি
গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কারণে
কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পারমাণবিক অস্ত্র বা তেজস্ক্রিয় উপাদানে তৈরি
ডার্টি বোমা অর্জনে সফল হতে পারেনি। ওই পাগলা মানুষেরা এমন অস্ত্রে হাত
রাখতে পারলে বহু মানুষকে হত্যা করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’ বৃহস্পতিবার
সম্মেলন শুরুর ঘণ্টা কয়েক আগে উত্তর কোরিয়া আবারও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা
চালিয়েছে বলে খবর আসে। সম্মেলন শুরুর পর এক ফাঁকে ওবামা দক্ষিণ কোরিয়ার
প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউয়েন হাই এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এ
নিয়ে কথা বলেন। অন্যতম পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
নওয়াজ শরিফ লাহোর হামলার কারণে সম্মেলনে যোগ দিতে পারেননি বলে জানানো
হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ওবামা টেলিফোনে কথা বলেন। গুঞ্জন ওঠে, নওয়াজ না আসায়
ওবামা ‘মনঃক্ষুণ্ন’ হয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এ খবর
প্রত্যাখ্যান করে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আইজাজ হোসেন গতকাল ওয়াশিংটনে
সাংবাদিকদের বলেন, পাকিস্তানের হাতে পরমাণু বোমা থাকা নিরাপদ নয়, এমন
অভিযোগ সঠিক নয়। আইজাজ আরও বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে তাঁরা পরমাণু অস্ত্র
সামলাচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একবারের জন্যও এই অস্ত্র দুর্ঘটনার মুখে
পড়েনি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment