Monday, April 25, 2016

রওশন পার্টিকে হেয় করেছেন, কাউন্সিল পেছাবে না -এরশাদ

বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ পার্টিকে হেয় করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, রওশনকে বলতে হবে এ পর্যন্ত কোনটা দলীয় গঠনতন্ত্রের বাইরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে? তিনি পার্টিকে কারো “একক সম্পতি বা কোনো কোম্পানী নয়”- বলে সংগঠনকে হেয় করেছেন। এছাড়া আগামী ১৪ই মে অনুষ্ঠিত পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের তারিখ পেছানো হবে না বলেও স্পষ্ঠ জানিয়ে দিয়েছেন এরশাদ। গতকাল জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে রওশন বলেন, সম্প্রতি এরশাদ যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাও দলের গঠনতন্ত্রের বিরোধী। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে প্রকাশ্যে আল্টিমেটাম দিয়ে রওশন জানিয়েছেন, এরশাদ তার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে সামনের কাউন্সিল প্রক্রিয়ার বিষয়ে তারা নতুন করে ভাববেন।  রওশন এও দাবি করেন, কাউন্সিল অধিবেশনের তারিখ সবার সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারন করা হয়নি। সবার সম্মতি নিয়ে কাউন্সিলের নতুন তারিখ নির্ধারণের আহবান জানান তিনি। এর জাবাবে আজ সোমবার  গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠান পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। বিবৃতির অধিকাংশটাই রওশনের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেন এরশাদ। এরশাদ বলেন, প্রথমেই জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতাকে মনে রাখতে হবে যে, সংসদীয় দল পার্টির একটি শাখা মাত্র। এই শাখার দায়িত্ব-পার্টির নীতিমালা অনুসারে শুধুমাত্র সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা। নীতি নির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা বা পর্যালোচনার ফোরাম হচ্ছে পার্টির প্রেসিডিয়াম। সুতরাং রওশন এরশাদ সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করে যে বক্তব্য রেখেছেন- এই ফোরামে এটা তার এখতিয়ার বহির্ভূত। তিনি পার্টিকে কারো “একক সম্পতি বা কোনো কোম্পানী নয়”- বলে সংগঠনকে হেয় করেছেন। এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি একটি গঠনতন্ত্রের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এই গঠনতন্ত্র কোনো বিশেষ ব্যাক্তির আরোপিত বিষয় নয়। এটি জাতীয় পার্টির গণতন্ত্রের দলিল, যা পার্টির প্রতিষ্ঠাকালে জাতীয় কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এই গঠনতন্ত্রের একটি শব্দও পরিবর্তন করতে হলে জাতীয় কাউন্সিল থেকে অনুমোদন নিতে হয়। এটাই হচ্ছে দলীয় গণতন্ত্রের ধারা। দলের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা সংবলিত ৩৯ ধারা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে আমার সৃষ্টি করা নয়। এটা জাতীয় কাউন্সিলে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি ধারা। এই ধারা সম্পর্কে পার্টির কারো কোনো আপত্তি থাকলে তা শুধুমাত্র জাতীয় কাউন্সিলে উত্থাপন করা যেতে পারে। কাউন্সিল ভোটের মাধ্যমে এই ধারা বাতিল বা  বহাল রাখার রায় দিতে পারে। তার আগে, যা গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- সেটাকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ধারা বলাটাই দলীয় গণতন্ত্রকে অবমাননা করা। এই ধারাবলে রওশন এরশাদকেও দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই ধারাবলে যারা ১৫/১৬ বছর দলের বাইরে ছিলেন তাদেরও দলে ফিরিয়ে এনে প্রেসিডিয়াম পদ দেয়া হয়েছে। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, পার্টির বর্তমান প্রেসিডিয়ামের অন্তত ৩৫ জন সদস্যই ৩৯ ধারা বলে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। ৩৯ ধারা যখন কারো পক্ষে যায়- তখন এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উপকারী ধারা হয়ে যায়। আর যখন ব্যাক্তি স্বার্থের বিপক্ষে যায় তখন এটা ‘অগণতান্ত্রিক’ হয়ে পড়ে। এই মানসিকতা থাকা উচিত নয়। দলের সর্বস্তরের নেতা, কর্মী, সমর্থকরা তা গ্রহণ করবে না। কাউন্সিলকে ঘিরে বিভক্তির বিষয়ে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টির কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা একক কোনো সিদ্ধান্ত ছিলনা। নির্বাচন কমিশন থেকে দুই বার সময় নেবার পর এবং তারপর সকলের মতামতের ভিত্তিতে দুইবার তারিখ পরিবর্তনের পর প্রেসিডিয়াম সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ভেন্যু ভাড়া করা হয়েছে। প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। ঢাকাস্থ বিদেশী মিশনসমূহে পত্র দিয়ে দাওয়াতও দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় ১৪ই মে অনুষ্ঠিতব্য কাউন্সিলের তারিখ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নাই। এরশাদ আরও বলেন, এটা ঠিক যে, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ভালো ফল করতে পারেনি। তার পিছনে অন্যসব কারণের পাশাপাশি গত ২ বছরে পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার দূর্বলতাও দায়ী ছিল। রওশন এরশাদ বিভিন্ন দলে চলে যাওয়া কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে বলেছেন, “পার্টির ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাদের হারিয়েছি”। এ প্রসঙ্গে বলতে চাই যে, যে নেতারা দল ছেড়ে চলে গেছেন, তারা প্রত্যেকেই বিএনপি বা আওয়ামী লীগের মতো দল থেকে জাতীয় পার্টিতে এসেছিলেন। ওইসব দলের ভুলের কারণেই কি তারা দল ছেড়ে জাতীয় পার্টিতে এসেছিলেন?  এরশাদ বলেন,  জাতীয় পার্টি যখন ক্ষমতায় ছিল এবং তারা যখন উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী, বা মন্ত্রী হতে পেরেছিলেন তখন মনে হয় দলের কোনো ভুল ছিল না। যখন ক্ষমতায় ছিলাম না তখনই যেন পার্টির ভুল হয়ে গেল। আর তারা সুবিধার লোভে অন্য দলে চলে গেলেন। এইসব সুবিধাভোগী নেতাদের জাতীয় পার্টির নেতা, কর্মী, সমর্থকরা কীভাবে গ্রহণ করবেন?  রওশন এরশাদ কোন গণতন্ত্র অনুসারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানালেন, তা স্পষ্ট করে বলুন। রওশনের প্রতি প্রশ্ন রেখে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, দল ভাগ করা কিংবা উপদল সৃষ্টি করা কি দলীয় গণতন্ত্রের আওতায় পড়ে? তাঁকে বলতে হবে এ পর্যন্ত কোনটা দলীয় গঠনতন্ত্রের বাইরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে?

No comments:

Post a Comment