১৫০টির বেশি দেশে পোলিও নির্মূলে
পুরোনো টিকার বদলে নতুন একটি টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। রোগটি নির্মূলের
চেষ্টায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক
বিবৃতিতে জানিয়েছে। গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে ১ মে
পর্যন্ত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির
(ইপিআই) ব্যবস্থাপক মো. তাজুল ইসলাম এ বারি প্রথম আলোকে বলেন, পোলিও
ভাইরাসের তিনটি ধরন (স্ট্রেইন) রয়েছে: টাইপ১, টাইপ২ ও টাইপ৩। আগে ভাইরাসের এ
তিনটি ধরনের প্রতিরোধে ব্যবহার করা হতো একটি টিকা। মানুষের মধ্যে পোলিও
টাইপ২ ভাইরাস আর নেই। এখন টাইপ১ ও টাইপ৩ নির্মূল করাই নতুন টিকাটির
লক্ষ্য। বাংলাদেশে এই টিকা দেওয়া হবে ২৩ এপ্রিল। ২১ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন
করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর
পোলিওর আক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। ভাইরাসজনিত রোগটিতে আক্রান্ত হলে
পক্ষাঘাত এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যু ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়,
পোলিও নির্মূলের জন্য বিশ্বজুড়ে গত কয়েক দশকে ব্যাপক প্রচেষ্টায় বেশ
সাফল্য এসেছে। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত পোলিও সংক্রমণের হার ৯৯ শতাংশ
কমেছে। একসময় পর্যন্ত বিশ্বের ১২৫টি দেশে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল
সাড়ে তিন লাখ। এখন কেবল আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে ভাইরাসটির অস্তিত্ব
রয়েছে। বিবিসি বলেছে, ২০১৫ সালে ৭৪ জনের শরীরে রোগটি শনাক্ত করা হয়। আর
চলতি বছর এ পর্যন্ত ১০ জনের শরীরে পোলিও জীবাণু পাওয়া গেছে। এ রোগীদের
সবাই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের। আফ্রিকা মহাদেশ এক বছরের বেশি আগে
পোলিওমুক্ত হয়েছে। তাজুল ইসলাম এ বারি জানান, বাংলাদেশ ২০০৬ সালের ২২
নভেম্বর থেকে পোলিওমুক্ত অবস্থায় আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ
এশিয়ার ১১টি দেশকে ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ পোলিওমুক্ত ঘোষণা করে। নতুন
টিকাটিও শিশুদের মুখে ফোঁটায় ফোঁটায় দেওয়া হবে। তাই এ বিষয়ে
স্বাস্থ্যকর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দরকার নেই।১৫০টির বেশি দেশে
আগামী ১ মে পর্যন্ত হাজারো মানুষ নতুন টিকা চালুর বিষয়টি পর্যবেক্ষণের
দায়িত্বে থাকবেন। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই এ কর্মসূচি পালিত হবে। এই
টিকা থেকে টাইপ২ পোলিও ভাইরাসের আর কোনো জীবাণু ছড়াবে না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment