Wednesday, April 27, 2016

জোড়া সেঞ্চুরির পরও হারল সিসিএস রানা আব্বাস

সাইফ হাসান (বাঁয়ে) ও সালমান হোসেনের
সেঞ্চুরিও জেতাতে পারেনি সিসিএসকে
ফতুল্লা-মিরপুর-বিকেএসপি। ৪৫ কিলোমিটার লম্বা এক রেখার তিন বিন্দুতে তিনটি মাঠ। বল হাতে জাতীয় দলের তিন পেসার। ম্যাচের বাকি একটি বল। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচ তিনটির ভাগ্য নির্ধারিত হবে ওই বলে। তিন ম্যাচেই একই সমীকরণ, জয় পেতে হলে ছক্কা হাঁকাতে হবে ব্যাটসম্যানকে। দৌড় শুরুর আগে তিন পেসারের লক্ষ্যও তাই এক—কোনোভাবেই ছক্কা না খাওয়া। সময় থামিয়ে দেওয়া মুহূর্তকে পাশ কাটিয়ে ছুটে এলেন তিনজন। বোলার-ত্রয়ী পেলেন তিন ধরনের অনুভূতি। ডট, রান আউট, ছক্কা! ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কাল ছিল রোমাঞ্চের দিন। দুই দিন আগের লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ-ভিক্টোরিয়া ম্যাচটিই যেন ফিরে এল বিকেএসপিতে। সেই একই উত্তেজনা, একই রোমাঞ্চ! সেদিন শেষ ওভারে ১৩ রান দরকার ছিল রূপগঞ্জের। কাল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংককে হারাতে ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে (সিসিএস) করতে হতো ১৫ রান। উইকেটে তখন ১০৩ রানে অপরাজিত সালমান হোসেন। রুবেল হোসেনের প্রথম বলেই লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে আরও উজ্জ্বল করে তুললেন অঘটনের সম্ভাবনা। পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গেল। ৩ বলে চাই ৭ রান। চতুর্থ বলে সালমানের কট বিহাইন্ড গল্পে আসল মোচড়। পঞ্চম বলে আরেকটি সিঙ্গেলে এই মাঠে আগের ম্যাচের মতোই শেষ বলে ছক্কার সমীকরণ। সেদিন শেষ বলে ৭ রান দরকার ছিল, ছক্কা মেরে ম্যাচ ‘টাই’ করেছিলেন তাইজুল। এদিন ছক্কা হলেই জিতে যায় সিসিএস। কিন্তু তাইজুল হতে পারলেন না রাজিন সালেহ। রুবেলের ইয়র্কার কোনোমতে লং অনে পাঠালেন। ১ রান হতো, ‘তা নিয়ে আর কী লাভ’ ভেবে রানটা নিলেনই না। ২৫৮ রান তাড়া করতে নেমে ১৩ রানে ২ উইকেটে হারিয়ে ফেলার পরও সিসিএসের সম্ভাবনার পালে জোর হাওয়া লেগেছিল সাইফ হাসান-সালমানের ব্যাটিংয়ে। দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে এসেছে ১৯৫ রান। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন দুজনই। খেলা দেখতে আসা বিসিবির অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার তাঁদের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ, ‘দুজনই অসাধারণ খেলেছে। অভিজ্ঞতার কাছেই হেরে গেল ওরা।’ অভিজ্ঞতাই আসলে শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হয়ে গেল এই ম্যাচের। প্রাইম ব্যাংক গতবারের চ্যাম্পিয়ন, এবারের লিগেও কাগজে-কলমে অন্যতম শক্তিশালী দল। সে তুলনায় সিসিএস একেবারে তারুণ্যনির্ভর। প্রথম বিভাগে নেমে গিয়ে এবারই আবার উঠেছে প্রিমিয়ার লিগে। মালিকানা বদল নিয়ে অনিশ্চয়তায় শেষ মুহূর্তে কোনোমতে দল গড়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পাঁচ খেলোয়াড়ই যাদের মূল শক্তি। নবীন এই খেলোয়াড়েরা সুযোগ-সুবিধা কতটুকু পাচ্ছেন, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন আছে। কালই যেমন ব্যাটিংয়ের সময় বাঁ পায়ের মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভব করছিলেন সালমান, বারবার ড্রেসিংরুমের দিকে ইঙ্গিত করেও কোনো সাহায্য পেলেন না। সিসিএস দলে যে ফিজিও-ই নেই! অগত্যা পাশের মাঠে অনুশীলন করতে আসা ভিক্টোরিয়ার ফিজিওকে ডেকে আনতে হলো। বেচারা সালমান, যে জয়টা তাঁর ব্যথায় সান্ত্বনার প্রলেপ হতে পারত, সেটিও হয়ে গেল মরীচিকা!
সংক্ষিপ্ত স্কোর
প্রাইম ব্যাংক: ৪৮.৩ ওভারে অলআউট ২৫৭ (তাইবুর ৭৬, ইয়াসির ৫৩, শেনাজ ৩৬; নাসুম ৩/৪৫, সালেহ ২/৩৮, রেফাতুজ্জামান ২/২৯, সাইফউদ্দিন ২/৫৩)। সিসিএস: ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৫২ (সাইফ ১০০, সালমান ১১০; রুবেল ৩/৪৮, শুভাগত ২/৩৬, মনির ২/৪৯)।
ফল: প্রাইম ব্যাংক ৫ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: সালমান হোসেন (সিসিএস)।

No comments:

Post a Comment