![]() |
| প্রথম গোলের পর ল্যান্ডিংয়ের উদ্যাপনের সঙ্গী এনামুল। আনন্দের অংশীদার হতে আসছেন জুয়েল রানা (বাঁয়ে)। পরে আরেকটি গোল করে শেখ জামালের জয়ের নায়কও ল্যান্ডিং |
জুয়েল
রানার পাস থেকে ওয়েডসনের দারুণ এক থ্রু। দুজনকে ছিটকে বেরিয়ে বক্সের একটু
ভেতর থেকে ল্যান্ডিংয়ের গড়ানো শটে লক্ষ্যভেদ। এতক্ষণ যে আফসোসটা
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে থাকা হাজার খানেক দর্শককে পোড়াচ্ছিল,
৮২ মিনিটে ল্যান্ডিংয়ের গোলে সেটি দূর। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তবু শঙ্কাটা
থেকেই যাচ্ছিল। কারণ শেখ জামাল ধানমন্ডি গোল করে গোল ধরে রাখতে পারছিল
না। দুবার এগিয়ে গিয়েও স্কোরলাইন হয়েছে ২-২। তাই ল্যান্ডিং ৩-২ গোলে
এগিয়ে নেওয়ার পরও শেখ জামালের জয় নিয়ে সংশয় জাগছিলই। শেষ পর্যন্ত অবশ্য
সিঙ্গাপুরের টেম্পাইনস রোভার্সকে হারিয়ে এএফসি কাপে প্রথম চার ম্যাচ হারের
পর পঞ্চম ম্যাচে এসে জয়ের হাসিতে মেতে উঠতে পেরেছে ঢাকার লিগ
চ্যাম্পিয়নরা। অথচ এই দলের কাছে প্রথম ম্যাচে হার ছিল ৪-০ গোলে! ঘুরে
দাঁড়াতে পরশু সংবাদ সম্মেলনে কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক সবার দোয়া
চেয়েছিলেন। অন্তত শেষ হোম ম্যাচে জয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর। বলেছিলেন, কিছু
একটা করার এই শেষ সুযোগ। জোড়াতালির দল হলেও নিজেদের মাঠে খেলা, তাই
একটা জয়ের আশা বাড়াবাড়ি মনে হয়নি। কালকের খেলা দেখে মনে হলো, শেখ
জামালের পুরো শক্তির দল থাকলে হয়তোবা তারা এএফসি কাপের পরের রাউন্ডে যেতে
পারত। পঞ্চম ম্যাচে এসে কোচ মানিকেরও উপলব্ধি, ‘সবাইকে নিয়ে খেলতে পারলে
আসলেই ওটা সম্ভব ছিল।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু ম্যাচে নিজেদের ভুলে জয়
হাতছাড়া করে হারতে হয়েছে শেখ জামালকে। কিন্তু কালকের গল্প ভিন্ন। গোছানো
ফুটবল খেলে যোগ্যতর দল হিসেবেই এই জয়। স্নায়ুচাপ ছিল, তবে সেটি জয় করে সব
খেলোয়াড়ই তাঁদের সেরাটা দিতে চেষ্টা করেছেন। রক্ষণে তপু বর্মন, মাঝমাঠে
জামাল ভুঁইয়ার জায়গায় মোনায়েম রাজু ও আক্রমণে জুয়েল রানা—তিন অতিথি
খেলোয়াড়ই ভালো খেলেছেন। অতিথি খেলোয়াড়সহ সবাইকে তাতিয়ে তুলতে কোচ
মানিক ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘এটি শেখ জামালের খেলা নয়, দেশের খেলা।
বাংলাদেশ নাম নিয়েই খেলতে হবে।’ খেলোয়াড়েরা তাঁর চাওয়া মিটিয়েছেন বলে
ম্যাচের পর দারুণ খুশি মানিক। নিজেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারলেন, ‘আমি
নিজেকে ব্যর্থ ভাবছিলাম। কিন্তু এই জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি। সবাইকে
ধন্যবাদ।’ তিন বিদেশিরই ধন্যবাদ একটু বেশি পাওয়ার কথা। আক্রমণে তাঁরাই দলের
সেরা অস্ত্র। ওয়েডসন, এমেকা ও ল্যান্ডিং নিজেদের মধ্যে অনেক পাস খেলেছেন,
যা টেম্পাইনসের রক্ষণে জায়গাও তৈরি করেছে। এর মধ্যে আলাদা ছিলেন ল্যান্ডিং,
তাঁর পা থেকে এসেছে দুটি গোল। প্রথম গোল ২০ মিনিটে, গড়ানো শটে। তারপর
এনে দিলেন জয়সূচক গোলটাও। এর আগে ৫৬ মিনিটে পেনাল্টিতে ২-১ করলেন এমেকা।
দেশের মাটিতে গত ম্যাচে গোলরক্ষকের ভুলে হেরেছিল শেখ জামাল। কালও দুটি
গোলেই দায় আছে গোলরক্ষক হিমেলের। ৪৫ মিনিটে প্রথম গোলে কর্নার থেকে
মোস্তাফিকের হেডে ফ্লাইট বুঝতে পারেননি, ডিফেন্ডাররা ছিলেন দাঁড়িয়ে। ৭০
মিনিটে দ্বিতীয় গোলে আরও বড় ভুল হিমেলের। তাঁর হাত ফসকে বেরিয়ে গেলে
মেহমেত টোকা দিয়ে বল জালে পাঠান। তবে দুই-একটা ভালো সেভও করেছেন হিমেল।
সব মিলিয়ে ভালো একটা সন্ধ্যাই কাটাল শেখ জামাল। ১০ মে ফিলিপাইনের সেরেস লা
সাল্লের সঙ্গে শেষটাও ভালো করার অপেক্ষা এখন। শেখ জামাল: হিমেল, তপু
বর্মন, কেষ্ট কুমার, লিংকন (রাকিন), সুইট, এনামুল, জুয়েল রানা, রাজু,
ল্যান্ডিং, এমেকা, ওয়েডসন।

No comments:
Post a Comment