Saturday, April 30, 2016

তবু এটা মুশফিকেরই ম্যাচ

সেঞ্চুরি করার পথে মোহামেডান অধিনায়ক
মুশফিকের আরেকটি শট। দলকে অবশ্য
জেতাতে পারেননি মুশফিক
দুঃসময়ে একজন ক্রিকেটারের কি এ রকমই থাকা উচিত? দম বন্ধ করে পার করে দিতে হবে দূষিত সময়ের বাতাস। মনের ভেতর সুসময় ফেরানোর প্রতিজ্ঞা জপতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের চাবি দিয়ে হবে সেই প্রতিজ্ঞাপূরণ। এমন ক্রিকেটারের আদর্শ উদাহরণ বাংলাদেশে বোধ হয় একজনই—মুশফিকুর রহিম। কাল বিকেএসপিতে মুশফিকের খেলা ছিল। খেলাটা আসলে মোহামেডান-ভিক্টোরিয়ার। মোহামেডান তাতে ২ উইকেটে হেরেছে। কিন্তু সেই হারে ‘মুশফিকের ম্যাচ’ পরিচয়টা হারিয়ে যায়নি খেলা থেকে। হেরেও ম্যান অব দ্য ম্যাচ মোহামেডান অধিনায়ক। তাঁর অসাধারণ এক সেঞ্চুরি ম্যাচের সবচেয়ে বড় অলংকার। তাঁকে নিয়েই সব আলোচনা। মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর বাঁহাতি স্পিনে শুরুতেই কাত হয়ে পড়েছিল মোহামেডানের তরি। ৬২ রানে ৪ উইকেট হারানো সে তরিকে টেনে তুলল মুশফিক-ফয়সাল হোসেনের (২৬) ১০১ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি। টি-টোয়েন্টিতে বাজে ফর্ম যে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রভাব ফেলে না, সেটা আগের ম্যাচে ৭২ করেই বুঝিয়েছেন। কাল আরেকটু দৃষ্টিনন্দন এবং মারকুটে ব্যাটিং করে মুশফিক সেঞ্চুরিই করে ফেললেন। ৪ বাউন্ডারি, ৫ ছক্কা। ইনিংসজুড়ে ব্যাট হাতে এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে, মনেই হয়নি এই মুশফিকই বয়ে বেড়াচ্ছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তীরে এনে তরি ডোবানোর হতাশা। বরং হার্দিক পান্ডিয়াকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে যে ছক্কাটা সেদিন মারতে পারেননি, ১০৮ বলে ১০৪ রানের ইনিংসে কাল সে রকমই এক ছক্কা মারলেন মুমিনুলকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে, ব্যাট উঁচিয়ে সেঞ্চুরি উদ্যাপনের একটু পরই অবশ্য আউট। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টা উইকেটে ছিলেন। ক্লান্তি হয়তো একটা কারণ। বাঁহাতি স্পিনার চতুরাঙ্গা ডি সিলভার বলে কাভারে ভিক্টোরিয়া অধিনায়ক নাদিফ ক্যাচটাও নিয়েছেন দারুণ। ৬২৮ রানের আগের ম্যাচটি টাই হয়েছে বিকেএসপিতে! তুলনায় বিকেএসপির কালকের উইকেটে ব্যাটিং একটু কঠিনই ছিল। বল কিছুটা ধীরে আসছিল ব্যাটে। মোহামেডান শিবিরে তাই বিশ্বাস জন্মেছিল, ২৪৭-ই জয়ের জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু এক দিকে কিছু মিস ফিল্ডিং, অন্যদিকে মুমিনুল-নাদিফদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে অনুমান। শেষ ২ ওভারে দরকার ৮ রান। ৪৯তম ওভারে নাঈম ইসলাম জুনিয়রকে ১ ছক্কা আর ১ চার মেরেই খেলা শেষ করে দেন নাদিফ। অবশ্য ৪২ থেকে ৪৩ ওভারের মধ্যে হঠাৎই ঘুরে যাচ্ছিল ম্যাচের মোড়। ১০ বলের মধ্যে ৪ উইকেট পতন ভিক্টোরিয়ার। ৪ উইকেটে ২২০ থেকে মুহূর্তেই স্কোর ৮ উইকেটে ২২১! কিন্তু মোহামেডানের জয়ের সম্ভাবনা মরীচিকার মতো মিলিয়ে যায় পরের ওভারগুলোয়। ‘প্রাপ্তি বলতে দুই স্পিনার নাঈম জুনিয়র ও ফয়সালের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়ারদের সন্দেহ প্রকাশ।’ সেঞ্চুরি করেও জিততে না পারাতেই কি ম্যাচসেরার স্মারক নিতে পুরস্কার বিতরণীতে আসেননি মুশফিক! দুবার কথা বলার চেষ্টা করেও কি এ জন্যই রাজি করানো গেল না তাঁকে? প্রথমবার হাতের ইশারায় ‘না’ করলেন, ঘণ্টা খানেকের টিম মিটিং শেষে আরেকবার এগিয়ে গেলে ‘কোনো কথা বলব না’ বলে উঠে গেলেন গাড়িতে। অথবা ব্যাটসম্যান সত্তাটাকে বাঁচাতেই মুশফিক কথা না বলার এই বর্ম পরে নিয়েছেন। এটাও মন্দ নয়। একজন ক্রিকেটারের কাজ তো আগে পারফর্ম করা, কথা বলা নয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান– ভিক্টোরিয়া, বিকেএসপি
মোহামেডান: ৫০ ওভারে ২৪৭/৯ (মুশফিক ১০৪, আরিফুল ৪২*; সোহরাওয়ার্দী ৪/২৯, ডি সিলভা ২/৪১)।
ভিক্টোরিয়া: ৪৮.৪ ওভারে ২৫০/৮ (মুমিনুল ৬৭, মজিদ ৫৫, নাদিফ ৫১*, ডি সিলভা ৩৮; হাবিবুর ২/৪৩, এনামুল জুনিয়র ২/৪৯, নাঈম ২/৫৩)।
ফল: ভিক্টোরিয়া ২ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মুশফিকুর রহিম।
গাজী গ্রুপ-রূপগঞ্জ, ফতুল্লা
গাজী গ্রুপ: ৫০ ওভারে ২৫৫/৮ (আনোয়ার ৭০, শামসুর ৬৯, এনামুল ৪২, ফারুক ৩০*; সৌম্য ২/১৪, জাইদি ২/৪৫, মোশাররফ ২/৫২)।
রূপগঞ্জ: ৪৯ ওভারে ২৫৬/৭ (মিঠুন ৭৫, আসিফ ৫৪*, জাইদি ৩৭, আলাউদ্দিন ৩৪*, নাহিদুল ২৫; দেলোয়ার ২/২৮, মেহেদী ২/৩১, অলক ২/৪২)।
ফল: রূপগঞ্জ ৩ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ মিঠুন।
কলাবাগান একাডেমি–ব্রাদার্স, মিরপুর
কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি: ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৩ (ইরফান ৪২, মাহমুদুল ৫৪, তাপস ৩০; শহীদ ২/৪৩, নুর আলম ১/৪৩, সঞ্জিত ২/২৩)।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ৪৫.৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৪ (তুষার ৬৭*, উইলিয়ামস ৭০; বিশ্বনাথ ১/৪৭, মাহমুদুল ১/৫০)।
ফল: ব্রাদার্স ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: তুষার ইমরান

No comments:

Post a Comment