![]() |
| কপিল দেব |
বিরাট
কোহলি রানআউট থেকে বেঁচে যাওয়ার পরই ভারতের সৌভাগ্যের কোটা ফুরিয়ে গেছে।
নতুন জীবন পেয়ে কোহলির রানবন্যায় মনে হচ্ছিল ভারত ম্যাচ জিতেই যাচ্ছে। এরপর
আবার প্রথম বলেই উইকেট পেলেন কোহলি। সবকিছুই ভারতের পক্ষে ছিল। কিন্তু এর
সবই ভেস্তে গেল উইন্ডিজদের ধ্বংসাত্মক ব্যাটিংয়ের কাছে। নিকট অতীতে এমন
নির্মম শট খেলতে দেখিনি কোনো দলকে। আর ওই দুটি নো-বল তো আছেই। এ যুগে
ক্রিকেটারদের কাছে প্রত্যাশা এত বেশি যে, তারা চাপে থাকে। কিন্তু এই
পর্যায়ের ক্রিকেট ওই নো-বল দুটির কোনো ব্যাখ্যা হয় না। চাপের সঙ্গে এর কোনো
সম্পর্ক নেই। নো-বল যাতে না হয় সেই চেষ্টা সবাই অনুশীলনেই সেরে নেয়। তবে
রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও হার্দিক পান্ডিয়াকে দেখে তা মনে হলো না। লেন্ডল
সিমন্সের ক্যাচটি যখন ছক্কা হলো তখনই হয়তো ভাগ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে
গেছে। ওই সময়টি ছিল আবেগ ও উত্তেজনার চূড়ান্ত মুহূর্ত। আমি তখনই ম্যাচটি
ভারতের হাত ফসকে যেতে দেখলাম এবং এতে শুধু ভাগ্যের অবদান ছিল না। ওয়েস্ট
ইন্ডিজই ভালো খেলেছে, জয়টি তাদের প্রাপ্য। বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য দারুণ এক
জয় এটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য এক ‘দেবদূত’ ‘মেসাইয়াহ’ হয়ে উঠল সিমন্স। পরশু
ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে উড়ে এসেই সে খেলতে নেমেছিল। আর কী অসাধারণ নৈপুণ্যেই
না ঝলসে উঠল! ভারতীয় বোলিং একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। তবে আমার চোখে
আন্দ্রে রাসেলের ইনিংসটিই ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে বেশি। তাকে এমনভাবে ব্যাট
করতে হয়েছে যাতে বল গ্যালারিতে যায়, ফিল্ডারদের নাগালের মধ্যে না থাকে। তার
ব্যাটের ঝলকে এত সহজে সেটি হলো, এ শুধু ক্যারিবীয়দের পক্ষেই মানায়। ভারতকে
দেখে মনে হলো, দলে শুধু একজনই খেলে—বিরাট। তাকে কীভাবে বর্ণনা করা যায়?
যেকোনো বলের জন্য তার হাতে শট আছে। ঠিকভাবে বললে, প্রতিটি বলের জন্য তার
দুই রকমের শট আছে। খেলতে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত পাল্টে ব্যাটে
আলতো একটা মোচড় দেয়, তাতেই বল এমন এক কোণ নিয়ে ছোটে, চোখ জুড়িয়ে যায়। অনেক
দিন পর এমন এক ব্যাটসম্যানের দেখা পেলাম, যে অনায়াসে একের পর এক চার মারে।
নিজের সময়ে অসাধারণ কিছু কভার ড্রাইভ দেখেছি, মনোমুগ্ধকর স্ট্রেট ড্রাইভও।
কিন্তু কোনো কিছুই বিরাটের প্লেসমেন্ট ও টাইমিংয়ের আশপাশে নেই। এ যে
বর্ণনাতীত! তার ইনিংসেও ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রানআউটের সুযোগ
হাস্যকরভাবে নষ্ট না করলে ম্যাচের গল্পটি পাল্টে যেত। কিন্তু ক্রিকেট তো
এমনই, সব ঘটন-অঘটনের মিশেল। এই সবই খেলাটিকে এত উত্তেজনাকর করে। ভারত এর
সুবিধাও পেয়েছে। কিন্তু রাত যত গড়িয়েছে সিমন্সের ইনিংসটিই সেমিফাইনালের গতি
নিয়ন্ত্রণ করেছে। এমন এক ইনিংস খেলেছে সে যা যেকোনো সংস্করণে যেকোনো
ব্যাটসম্যানকে গর্বিত করবে। হ্যাঁ, ইনিংসটিতে ভাগ্যের ছোঁয়া ছিল, সেই সুযোগ
সিমন্স কাজে লাগিয়েছে। এই ইনিংসই ভারতকে হারিয়ে দিল। ব্যাটিংয়ে আমার নায়ক
যিনি, সেই ভিভ রিচার্ডসও সিমন্সের এই ইনিংস খেলতে পারলে খুশি হতেন। সিমন্স
ভারতীয় বোলারদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল, ঠিক ভিভের মতোই। রাসেল ছক্কা দিয়ে
ম্যাচের শেষ টেনেছে, এতেও তো পাওয়া গেল ভিভের ছোঁয়া। ছক্কাটাও মেরেছে
ভারতের নায়ক বিরাটকে! ওই এক শটেই তো তাদের পুরো দলের বর্ণনা ফুটে ওঠে,‘টিম
অব এন্টারটেইনারস!’

No comments:
Post a Comment