Thursday, April 28, 2016

মামলার অগ্রগতি নেই

অভিজিৎ​ ও ফয়সল হত্যা
বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক অভিজিৎ রায় ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ দুই ঘটনায় খুনিরা এখনো ধরা পড়েনি। এমনকি ফয়সল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে শনাক্তও করতে পারেনি পুলিশ। মামলা দুটির এ অবস্থায় গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, অভিজিৎ ও ফয়সলের হত্যাকারীদের ‘দু-একজন’ দেশের বাইরে চলে গেছে। সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যা মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কারা খুন করেছে সেই নাম-ঠিকানা আমরা পেয়েছি। কেউ কেউ হয়তো গ্রেপ্তার হয়েছে। অনেককে হয়তো গ্রেপ্তার করতে পারিনি। ইতিমধ্যে আবার দু-একজন বাংলাদেশের বাইরে চলে গেছে।’ ডিএমপির কমিশনারের এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিজিৎ রায়ের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায়। যোগাযোগ করা হলে গতকাল রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘হত্যাকারীরা দেশের বাইরে চলে গেছে, আর উনি পুলিশ (ডিএমপি) প্রধান হয়ে বসে আছেন। আসামিরা দেশের বাইরে কী করে গেল? জানলেন কী করে, কোন সূত্র ধরে? নাকি আসামি ধরার ইচ্ছা নেই? অবিলম্বে পদত্যাগ করছেন না কেন? এর আগে তো বলা হয়েছিল হত্যাকারীদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আসলে ‘সরষের মধ্যে ভূত’। অভিজিৎ ও ফয়সল হত্যা মামলার তদন্ত করছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, অভিজিৎ হত্যা মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তদন্তে এ হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে এখনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর ফয়সল হত্যা মামলায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এ দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে—তদন্ত চলছে এমন সন্দেহকে ঘিরে। হত্যাকারীদের দু–একজন দেশের বাইরে চলে গেছে: ডিএমপি কমিশনার ডিএমপি কমিশনারের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম এর আগে একাধিকবার বলেছেন, অভিজিৎ হত্যায় অংশ নেওয়া সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহত ফয়সল আরেফিনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সাবেক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের কাছে গতকাল ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশের বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তরা অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা এবং তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদকে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলায় ডিবি এ পর্যন্ত শফিউর রহমান ফারাবি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমান, সাবেজ আলী, আমিনুল মল্লিক, জুলহাস বিশ্বাস, মো. জাফরান হাসান, মো. আবুল বাশার ও সাদেক আলিমকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা কারাগারে রয়েছেন। গত ৩১ অক্টোবর শাহবাগে আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীতে ঢুকে এর মালিক ফয়সলকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মামলাও হয় শাহবাগ থানায়। অভিজিৎ ও ফয়সল হত্যা মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, এ দুই মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও হত্যাকারীরা জালে ধরা পড়ার পর্যায়ে আছে।

No comments:

Post a Comment