Thursday, April 28, 2016

জাহাজ চালাবেন না নৌযান মালিকেরা!

শ্রমিক ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর গতকাল দুপুরে পণ্য
ওঠানো–নামানোর কাজ হয় চট্টগ্রামের মাঝিরঘাটে
মজুরি বাড়ানো নিয়ে শুরু হওয়া শ্রমিক ধর্মঘট প্রত্যাহারের এক দিন পর এবার পণ্যবাহী নৌযান মালিকদের সংগঠন জাহাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে এক বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘চাপিয়ে’ দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকের পর গতকাল বিকেল থেকে নদীপথে পণ্য পরিবহন বড় অংশই আবার বন্ধ হয়ে যায়। তবে সিমেন্ট শিল্পমালিকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই শতাধিক জাহাজে পণ্য পরিবহন ও খালাসের কাজ হচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে গত বুধবার রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া নৌযানশ্রমিকদের ধর্মঘট গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় স্থগিত করা হয়। এর আগে ওই দিন দুপুরে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে আন্দোলনরত শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়। এতে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন ধাপের মজুরি ৭ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে এ সিদ্ধান্তের কথা মন্ত্রী জানানোর পর ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেন নৌযান শ্রমিকনেতারা। তবে নৌযান মালিকদের প্রতিনিধিরা মজুরি বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে একমত হননি বলে জানা গেছে। মালিকেরা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বৈঠকের একপর্যায়ে বেরিয়ে যান। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বিকেলে নৌযান মালিকদের বৈঠকে বাড়তি মজুরি দিয়ে জাহাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খোরশেদ আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মঙ্গলবার বৈঠকে মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এত মজুরি দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করে লোকসান গুনতে হবে। এ কারণে জাহাজ না চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ বন্দর সূত্র জানায়, গতকাল বিকেল পর্যন্ত বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের কাজ হয়। নৌযান মালিকদের সিদ্ধান্তের পর ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৬৮১টি লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে যায়। তবে শিল্পমালিকদের নিয়ন্ত্রণাধীন জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে। এ বিষয়ে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবী আলম বলেন, ‘আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। মালিক সমিতির কাজ বন্ধ করার এখতিয়ার নেই।’

No comments:

Post a Comment