![]() |
| ঢাকায় গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির সভায় শুল্ককাঠামো যৌক্তিকীকরণ–সংক্রান্ত এফবিসিসিআইয়ের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন অর্থমন্ত্রীসহ অতিথিরা |
আবাসন
খাতে বিনা শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বর্তমানে শর্ত সাপেক্ষে আবাসন খাতে
কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ আছে। আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট
বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে আয়কর, আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর
(মূসক) বিষয়ে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। এতে বিনা শর্তে
কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চাওয়া হয়। তাদের যুক্তি, সুযোগ না দিলে বিপুল
পরিমাণ অর্থ পাচার হয়ে যাবে। এ ছাড়া বর্তমানে ‘সেকেন্ড হোম’ করতে
স্বাভাবিক নিয়মেই বিভিন্ন দেশে অর্থ চলে যাচ্ছে। রাজধানীর সোনারগাঁও
হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
ও এফবিসিসিআইয়ের যৌথ আয়োজনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৩৭তম
সভা হয়। এতে এফবিসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংগঠনের সভাপতি
আবদুল মাতলুব আহমাদ। এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব
করেন। কালোটাকার বিষয়ে এফবিসিসিআই আবাসন খাতের সাম্প্রতিক অবস্থা বিবেচনায়
নিয়ে ৫-১০ বছরের জন্য অর্থের উৎস প্রদর্শন না করার সুযোগসহ আয়কর
অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ধারা ১৯ বিবিবিবিবি পুনঃপ্রবর্তন চেয়েছে। বর্তমান আইন
অনুযায়ী অবৈধ ও অপরাধ সংঘটিত করে অর্জিত কোনো অর্থ বিনিয়োগ করা যায় না।
অর্থাৎ বিনিয়োগকারীকে অর্থের উৎস উল্লেখ করতে হয়। এদিকে মুদ্রাস্ফীতি,
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনগণের ক্রয় হ্রাস ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে
ব্যক্তি আয়ের করমুক্ত সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার
প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। ন্যূনতম আয়কর কমিয়ে তিন হাজার টাকা করার
পাশাপাশি ব্যক্তি করদাতাদের প্রদর্শিত নিট পরিসম্পদের ওপর সারচার্জ
প্রয়োগের বিধান বাতিলের দাবি করেছে তারা। ব্যাংক, বিমা, অন্যান্য আর্থিক
প্রতিষ্ঠান, মুঠোফোন অপারেটর, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সিগারেট কোম্পানি
ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অন্য সব কোম্পানির করপোরেট কর ২৫ থেকে
কমিয়ে ২৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে
তালিকাভুক্ত নয় এমন উৎপাদক কোম্পানির করপোরেট কর ২৮ শতাংশ ও ট্রেডিং
কোম্পানির করপোরেট কর ৩৩ শতাংশ; শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও
অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাড়ে ৩৮ শতাংশ ও তালিকাভুক্ত নয় এমন
প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাড়ে ৪০ শতাংশ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের করপোরেট কর
৩৫ শতাংশ করার সুপারিশ করেছে এফবিসিসিআই। পোশাকশিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানের
ওপর নিট মুনাফায় ১০ শতাংশ হারে করারোপের প্রস্তাব দিয়েছে ফেডারেশন।
সিরামিকস টাইলস, এলপিজি বোতল তৈরির প্ল্যান্ট স্থাপন, ডায়মন্ড কাটিং ও
হোটেল রিসোর্টসহ পর্যটনশিল্পের অবকাঠামো নির্মাণ খাতকে কর অবকাশ সুবিধা
দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল
আবদুল মুহিত বলেন, আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তুলনামূলক বেশি
বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি জানান, ২০১৮ সাল থেকে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন
বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকেরা তা দিতে না পারলে কঠিন
শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যত দিন গ্যাস না পাওয়া যায় তত দিন শিল্পের
জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৫ থেকে ৬ টাকায় দেওয়ার দাবি করেছেন এফবিসিসিআইয়ের
সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। পরামর্শক কমিটির সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা যেন
অচিরেই গ্যাস পাই, সেটির ব্যবস্থা করা দরকার।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন
অর্থ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নানসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের
প্রতিনিধিরা।

No comments:
Post a Comment