Saturday, April 30, 2016

নীতি-সহায়তার ঘোষণাও পতন থামাতে পারল না

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-সহায়তার প্রণোদনার ঘোষণাও শেয়ারবাজারের চলমান দরপতন ঠেকাতে পারল না। গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সীমা সমন্বয়ের সময় না বাড়িয়ে বিকল্প নীতি-সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ঘোষণার পর আশা ছিল পুঁজিবাজারের পতন থামবে। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার দিন শেষে সেটি হয়নি। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১ শতাংশ বা ৪৩ পয়েন্ট কমে আরও তলানিতে নেমে এসেছে। দিন শেষে ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৯৬ পয়েন্টে। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচকটিও ১ শতাংশ বা ১২৮ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১২ হাজার ৯১৯ পয়েন্টে। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে নীতি-সহায়তার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেটি সুস্পষ্ট নয়। ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এ নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে বাজারে।
মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি-সহায়তার ঘোষণার বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় বাজারের পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে বুধবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাড়াহুড়ো করে নীতি-সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাংকের সহযোগী কোম্পানির মূলধন বাড়িয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করা যাবে। এ ছাড়া বিনিয়োগ হিসাবায়নের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে দেওয়া হয়নি। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, আগামী ২১ জুলাইয়ের মধ্যে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো যে অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে, তা সমন্বয় করতে হবে। শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সেটি করতে গেলে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়বে। তাতে আরও বেশি পতন ঘটতে পারে বাজারে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রি না করেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ সমন্বয়ের আইনি বাধ্যবাধকতা পরিপালন করা যাবে। এদিকে গতকালের লেনদেন শুরু হয় সূচকের ইতিবাচক প্রবণতায়। তবে সেটি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বরং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের পতন ত্বরান্বিত হয়। তবে লেনদেন বেড়েছে ঢাকার বাজারে আর কমেছে চট্টগ্রামে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪৪২ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৮৬ কোটি টাকা বেশি। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২১ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৭ কোটি টাকা কম।

No comments:

Post a Comment