Thursday, April 7, 2016

খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘ফুড ব্যাংক’ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব ফুড ব্যাংক গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার একজন মানুষকেও যাতে খাদ্যের অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সার্ক খাদ্য ব্যাংক হবে আমাদের বিপদের বন্ধু।’
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তৃতীয় সার্ক কৃষিমন্ত্রী পর্যায়ের সভার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এ বৈঠকের আয়োজন করেছে।
দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে একযোগে কাজ করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, একটি মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, অপুষ্টিতে না ভোগে। আমরা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চাই। কিন্তু কোনো একক দেশের পক্ষে তা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন যৌথ উদ্যোগ।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। এগুলো হচ্ছে স্বল্প দামে উন্নত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা; কৃষিকাজে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি; রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব-পদ্ধতির কৃষির প্রবর্তন; কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ; কৃষি উৎপাদন খরচ হ্রাস; কৃষক পর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ; কৃষি বিপণনব্যবস্থা জোরদার; প্রান্তিক চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষা; গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং মাছের রোগ প্রতিরোধসহ উন্নত চাষপদ্ধতি চালু করা এবং এসব কর্ম সম্পাদনের জন্য উন্নততর গবেষণা পরিচালনা করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত বেশির ভাগ দেশেরই অর্থনীতি এখনো প্রধানত কৃষিনির্ভর। যদিও কোনো কোনো দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য ও পুষ্টির জোগান এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে কৃষি এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের অবস্থান শীর্ষে। সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্য সত্ত্বেও আজও বিশ্বের সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আমাদের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম বেশ কিছু ফসলের জাত এবং কৌশল উদ্ভাবন করেছেন।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পাটের জন্ম-রহস্য উন্মোচন কৃষি গবেষণা এবং উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশেও একই ধরনের সাফল্য রয়েছে। আমরা সবার কল্যাণের জন্য এগুলো বিনিময় করতে পারি। এ অঞ্চলে টেকসই কৃষির উন্নয়ন এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার প্রয়োজন।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছি। আমরা এ অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর সারিতে আমাদের আসন নিশ্চিত করতে চাই।’
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে ভারতের কৃষি এবং কৃষককল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাধা মোহন এবং সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা বক্তৃতা করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

No comments:

Post a Comment