![]() |
| টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কড়া সমালোচনা ওয়াহ ও বোথামের কণ্ঠে |
ক্রিকেটাররা
এখন দলের নয়, টাকার দাস—স্টিভ ওয়াহ মনে-প্রাণেই বিশ্বাস করেন কথাটা।
চোখের সামনে যা দেখছেন, তা থেকেই এমন বিশ্বাস আরও শেকড় গেড়ে বসছে তাঁর
মনে। ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই অধিনায়ক মনে করেন, বিশ্বময় যেভাবে
টি-টোয়েন্টি লিগের উত্থান ঘটছে, এই লিগগুলো যেভাবে খেলোয়াড়দের মধ্যে
টাকার হাতছানি ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেকোনো দলের পক্ষেই তিন ফরম্যাটে সত্যিকারের
সমন্বয় ঘটিয়ে দল গড়া মুশকিল। স্টিভ ওয়াহর মতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল
হচ্ছে এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটিকে দেখলেই বোঝা যাবে,
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উত্থান কীভাবে টেস্ট ও ওয়ানডেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশ্বসেরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ওয়ানডেতেও কি না র্যাঙ্কিংয়ের নয়ে। আর টেস্টে
তো খাবি খাচ্ছে অনেক দিন ধরেই। এই মুহূর্তে টি-টোয়েন্টির উত্থান ও
প্রসারের মধ্যেও তিন ফরম্যাটেই মোটামুটি একই মানের দলের তালিকায় ওয়াহ
এগিয়ে রাখেন নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়াকেও। ধোনি-কোহলির ভারতও তাঁর মতে এ
ব্যাপারে খুব একটা পিছিয়ে নেই। ইংল্যান্ডও নাকি এ ব্যাপারে মোটামুটি ঠিক
পথেই আছে। ওয়াহর চিন্তার বিষয় খেলোয়াড়দের আনুগত্যহীনতাই, ‘টি-টোয়েন্টি
ক্রিকেট, বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ যেভাবে টাকার হাতছানি ছড়িয়ে দিয়েছে,
তাতে জাতীয় দলের প্রতি খেলোয়াড়দের আনুগত্য প্রায় নেই বললেই চলে—যা
ক্রিকেটের জন্য খুব ক্ষতিকর।’ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অবসরের উদাহরণ টেনে
ওয়াহ বলেছেন, ‘ম্যাককালাম কেন হঠাৎ করেই অবসরে গেল বুঝতে পারলাম না। সে খুব
সহজেই আরও তিন-চার বছর দাপটের সঙ্গেই খেলে যেতে পারত। সে তাঁর পরিবারকে
সময় দেওয়ার কথা বলেছে—মেনে নিচ্ছি, কিন্তু ক্রিকেটারদের যে দলের প্রতি
আনুগত্যের ঘাটতি আছে ম্যাককালামের হঠাৎ অবসর কিন্তু সেটার ইঙ্গিতই দেয়।’
ভারতের মাটিতে একটি ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে বলা ওয়াহর এই
কথাগুলোই যেন উচ্চারিত হয়েছে ইংলিশ কিংবদন্তি ইয়ান বোথামের কণ্ঠেও। তিনি
মনে করেন, ‘অগ্রাধিকারের ব্যাপার যদি আসে, টি-টোয়েন্টিকে সবার পেছনেই রাখা
উচিত। এ ক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেট থাকা উচিত সবচেয়ে আগে।’ বোথাম মনে করেন,
‘টেস্ট ক্রিকেটই ক্রিকেটের সবচেয়ে সেরা উদাহরণ। ক্রিকেটারদেরই উচিত এই
বিষয়টি দর্শকদের ভেতর ঢুকিয়ে দেওয়া। টেস্ট ক্রিকেটের দর্শক এখনো আছে।
ইংল্যান্ডে এখনো টেস্ট সিরিজে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া,
নিউজিল্যান্ডেও একই অবস্থা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ২০টি ওভারই কিন্তু সব
নয়। ক্রিকেট খেলায় এই ২০ ওভারের বাইরেও অনেক কিছু ঘটার আছে।’

No comments:
Post a Comment