![]() |
| প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অভিশংসনের পক্ষে ভোট পড়ার পর সরকারবিরোধীরা উল্লােস ফেটে পড়েন |
গভীর
সংকটের দিকে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশ ব্রাজিল। দেশটির
পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ রোববার প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফের অভিশংসন
প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে সম্মতি দিয়েছে। সরকারি তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের
অভিযোগে দিলমাকে অভিশংসনের দাবি উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লষকেরা বলছেন,
নিম্নকক্ষে অভিশংসনের পক্ষে রায় দেওয়ায় সিনেটের ভোট হবে। সেখানে প্রস্তাবের
পক্ষে অর্ধেকের বেশি ভোট পড়লে রুসেফ পদত্যাগে বাধ্য হতে পারেন। কিন্তু এর
ফলে সংকট কাটবে না, বরং বাড়বে। কেননা, রুসেফের দল ক্ষমতা থেকে সরে গেলে এর
প্রতিশোধ নিতে তারাও মরিয়া হয়ে উঠবে। ফলে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তৈরি
হলো অনিশ্চয়তা। দিলমা রুসেফকে অভিশংসনের পক্ষের প্রস্তাব গতকাল কংগ্রেসের
নিম্নকক্ষে পাস হয় ৩৬৭ ভোটে। মোট ৫১৩টি ভোটের মধ্যে দরকার ছিল দুই-তৃতীয়াংশ
বা ৩৪২টি ভোটের। টানা পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পর রোববার মধ্যরাতে প্রস্তাব
পাস হওয়ায় দেশটির বিভিন্ন স্থানে উল্লাস করে মিছিল করেছে দিলমাবিরোধীরা।
দিলমার পক্ষে ভোট পড়ে ১৬৭টি। সাতজন ভোটদানে বিরত ছিলেন। দুজন পার্লামেন্টে
উপস্থিত ছিলেন না। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের পাস হওয়া প্রস্তাব আগামী মাসে
যাবে সিনেটে। ৮১ আসনের সিনেটে যদি প্রস্তাবটি সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়ই
অনুমোদিত হয়, তবে প্রেসিডেন্টের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তখন থেকে ছয়
মাস রুসেফ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। এ সময় ভাইস
প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন। পরে সিনেটে অভিশংসন প্রস্তাব নিয়ে ভোট
হবে। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হলে রুসেফকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে
স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াতে হবে। তবে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হওয়ায় ক্ষুব্ধ
প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দিলমার মন্ত্রিসভার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী
জ্যাকুয়েস ওয়াগনার। তিনি বলেন, এতে দেশ গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
রুসেফের অ্যাটর্নি জেনারেল হোসে কারদোজো এই অভিশংসন প্রক্রিয়াকে ‘ব্রাজিলের
গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের শামিল’ বলে উল্লেখ করেছেন। অভিশংসনের
প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির সময় পার্লামেন্টের বাইরে সমবেত হয় দিলমা রুসেফের
পক্ষের ও বিপক্ষের হাজার হাজার মানুষ। ভবনের সামনে বিশাল পর্দায় টেলিভিশন
দেখার ব্যবস্থা ছিল।
![]() |
| ভোটে হেরে যাওয়ার পর রুসেফ সমর্থকদের অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন |
অভিশংসন প্রস্তাব পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে।
অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মচারী মারিস্তেলা দ্য মেলো বলেন, ‘আমি খুব খুব
খুশি। এক বছর ধরে দিলমার বিরুদ্ধে নানা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি। আজ খুশি
হলাম।’ দিলমার বিরোধীরা যখন আনন্দে উদ্বেল, তখন তাঁর পক্ষের শিবিরে নেমে
আসে শোকের ছায়া। পার্লামেন্ট ভবনের কাছে তাঁর সমর্থকদেরও একটি জমায়েত ছিল।
সেখানে অংশ নেওয়া মারিয়ানা সান্তোস কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের
জন্য অপমানজনক।’ তেমার প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন? সিনেটে বামপন্থী দিলমার
বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলে ব্রাজিলের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে
পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মিশেল তেমার। তাঁর সহযোগী ও নিম্নকক্ষের স্পিকার
এদোয়ার্দো কুনহা বলেন, দিলমার বিদায় এখন সময়ের ব্যাপারমাত্র। ব্রাজিলকে এখন
এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেতে হবে। তবে রাজনৈতিক
বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেমার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তবে তাঁর পথ মসৃণ হবে না।
অর্থনৈতিক মন্দার শিকার ব্রাজিলে নতুন যিনিই ক্ষমতায় আসুন, তাঁকে ভুগতে
হবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আন্দ্রে সিজার। তিনি বলেন,
দিলমাবিরোধীদের আনন্দের দিন বেশি দিন থাকবে না।


No comments:
Post a Comment