Monday, April 18, 2016

কলেজছাত্রী ফারজানা হত্যার বিচার চায় পরিবার

ফারজানা ইয়াসমিন
সরকারি তিতুমীর কলেজছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিনকে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, চার লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় ফারজানার স্বামী আলী আজগর তাঁকে হত্যা করেছেন। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি কর হয়। ইতিমধ্যেই আলী আজগরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মানববন্ধন শেষে ফারজানার মা লুৎফা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, চার বছর আগে ফারজানার সঙ্গে আলী আজগরের পরিচয় হয়। তাঁরা তিন বছর আগে পালিয়ে বিয়ে করেন। গত বছর থেকে মহাখালীতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাঁরা সংসার শুরু করেন। সংসারের শুরু থেকে ফারজানাকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতেন আজগর। ফারজানাকে বাবার কাছ থেকে চার লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে চাপ দিতে থাকেন। এ জন্য মাঝেমধ্যে ফারজানাকে মারধর করা হয়। লুৎফা বেগম বলেন, ‘৪ এপ্রিল বিকেলে খবর পাই ফারজানা অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দ্রুত আমার এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে হাসাপাতালে গিয়ে ফারজানাকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পাই। এ সময় ফারজানা আমাকে বলে, আলী আজগর তাঁকে বিষাক্ত কিছু খাইয়েছে। এরপর রাতে আমার মেয়ে মারা যায়।’ পরদিন লুৎফা বেগম বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই আলী আজগরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আলী আজগরের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকার চানর গ্রামে। ফারজানার বড় বোন শাহনাজ বলেন, ‘ঘটনার দিন ফারজানার স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ বাসায় ছিলেন। মামলায় সবাইকে আসামি করতে চাইলেও পুলিশ শুধু আলী আজগরকে আসামি করেছে। আমরা এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ ঘটনাটি যেন ধামাচাপা না পড়ে এবং আলী আজগর যেন জামিন না পান, সে জন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে ফারজানা ইয়াসমিন সবার ছোট। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা রাজধানীর গুলশান নিকেতনে থাকেন। তিতুমীর কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন ফারজানা। মানববন্ধনে ফারজানার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও তাঁর সহপাঠী ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment