![]() |
| বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড গরমে গাছ তলায় পাঠদান করা হচ্ছে |
বরিশালের
আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের পূর্ব মোহনকাঠি সরকারি প্রাথমিক
বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান
বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে শুধু পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া
হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, তিন বছর আগে বিদ্যালয়টির ভবন
পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। নতুন ভবন নির্মাণ না করায় ওই ভবনেই পাঠদান করা
হচ্ছিল। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উপজেলা
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল গাজী গত ৬ মার্চ ভবনটি তালাবদ্ধ
করে দেন। এর ফলে পাঠদানের জায়গা না থাকায় দুই সপ্তাহ ধরে চতুর্থ শ্রেণি
পর্যন্ত পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের
পাঠদান করা হচ্ছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অবনী ভূষণ সরকার বলেন,
১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট ভবন
নির্মাণ করা হয়। কাজের মান খারাপ হওয়ায় ২০১২ সালেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী
হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও
উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়। তাঁরা পরিদর্শন করার পর উপজেলা শিক্ষা
কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। গত শনিবার সকালে
গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় সুধন্য বৈরাগীর বাড়ির সামনের মাঠে খোলা আকাশের
নিচে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। পুরো মাঠটি
প্রখর রোদে উত্তপ্ত। শিক্ষার্থীরা রোদের গরমে অনেকটাই ক্লান্ত। প্রধান
শিক্ষক আবুল কালাম শরীফ বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষক ও আড়াই শ
শিক্ষার্থী রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠ দানকালে গত আড়াই বছরে পলেস্তারা ও
বিম খসে কমপক্ষে ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। এপ্রিলের শুরু থেকে চতুর্থ
শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খোলা আকাশের নিচে পঞ্চম
শ্রেণির পাঠদান চলছে। এখন রোদে কষ্ট করে ক্লাস নেওয়া যায় কিন্তু মেঘ
দেখলেই পাঠদান বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকে না। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুলতানা
আক্তার ও সানজিদা আক্তার বলে, ‘রোদে পুড়ে ক্লাস করি কিন্তু বৃষ্টিতে ক্লাস
বন্ধ হওয়ায় আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।’ অভিভাবক সুমি বেগম ও বাবুল
মৃধা বলেন, ‘সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আগে ভবন ধসে পড়ার ভয়ে থাকতাম। এখন
রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ার দুশ্চিন্তায় থাকি।’ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির
সদস্য সুবোধ চন্দ্র বৈরাগী ও সূর্য কান্ত রায় জানান, পরিত্যক্ত ঘোষণার পর
আড়াই বছর পার হলেও ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেই। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের
ভবন নির্মাণের জন্য তাঁরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর
কাছে দাবি জানান। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল হক তালুকদার
বলেন, বিদ্যালয়টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তিনি এডিবির অর্থায়নে ওই বিদ্যালয়
মাঠে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালু রাখার কথা
বলেছেন।

No comments:
Post a Comment