![]() |
| এবার টেস্ট দলেও জায়গা করে নিতে চান সাব্বির |
বাংলাদেশ
দলের সবাই এখন ছুটিতে। তবে সাব্বির রহমান বেশ ব্যস্ত। কিসের ব্যস্ততা?
‘বাসা বদলাচ্ছি, একটু দৌড়াদৌড়ির মধ্যে আছি।’ ‘দৌড়াদৌড়ি’র মধ্যেই শুনলেন
খবরটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে ২০তম স্থানে
ছিলেন সাব্বির। টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে তুলে এনেছে ১৬
নম্বরে। র্যাঙ্কিংয়ে এটাই তাঁর ক্যারিয়ার-সেরা অবস্থান। এ মুহূর্তে আইসিসির
টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনিই সবার
ওপরে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে ধারাবাহিক সাফল্যে সাব্বিরের গায়ে
সেঁটে গেছে ‘টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ’ তকমা। তাঁর অভিষেক ২০১৪ সালের
ফেব্রুয়ারিতে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এর পর বাংলাদেশের খেলা সব টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ মিলিয়ে সাব্বিরেরই সবচেয়ে বেশি রান—২৬ ম্যাচে ৩০.২০ গড়ে ৬০৪। ২৭
ম্যাচে ৫৪৯ রানে দুইয়ে আছেন সাকিব আল হাসান, ২৫ ম্যাচে ৫৪৮ রান করে তিনে
তামিম ইকবাল। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে খুব একটা উজ্জ্বল ছিল না সাব্বিরের
পারফরম্যান্স। প্রথম ৫ ম্যাচে করেছিলেন ৫০ রান। গত বছর এপ্রিলে পাকিস্তানের
বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ৫১ রান ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের বড় বাঁকবদল।
বিপিএলের শেষ দিকে দারুণ করার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ ও এশিয়া কাপ গেছে
দুর্দান্ত। এশিয়া কাপে ৫ ম্যাচে ৪৪ গড়ে ১৭৬ রান করে টুর্নামেন্ট-সেরাও
তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ছিলেন বেশ ধারাবাহিক, ৭ ম্যাচে ২৪.৫০ গড়ে রান
১৪৭। টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়ার পেছনে ইতিবাচক মানসিকতার কথাই
বললেন সাব্বির, ‘এই সংস্করণ দিয়েই বাংলাদেশ দলে এসেছিলাম। শুরুর দিকে তেমন
ভালো করতে পারিনি। তখন অতটা পরিণত ছিলাম না। হয়তো ভয়ভীতি কাজ করত। পরে
স্বাভাবিক হয়ে গেছি অনেক।’ বাংলাদেশের হয়ে সম্প্রতি নিজের ভালো করার পেছনে
বিপিএলের অবদান দেখেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, ‘এবারের বিপিএলে ভালো
খেলেছি। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর প্রতিটি সিরিজ-টুর্নামেন্টে ভালো করেছি।
আসলে এই সংস্করণে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছি। খুব ইতিবাচক থাকি বলেই হয়তো
টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য পাই।’ নিয়মিত রান পেয়েছেন, কিন্তু তারপরও এবারের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তাঁর কাছে একটা আক্ষেপেরও বিষয়, ‘আরও কিছু যদি রান
করতাম, ম্যাচ জেতাতে পারতাম, দু-একটা ফিফটি করতে পারতাম, উইনিং শট খেলতে
পারতাম...অনেক ভালো লাগত। ভবিষ্যতে এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও ভালো
করার চেষ্টা করব।’ তবে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব ছাপিয়ে সাব্বিরকে
পোড়াচ্ছে সুপার টেনে দলীয় ব্যর্থতা। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুতে ভারতের কাছে ১
রানে হারের দুঃখটা ফিরে ফিরে আসছে তাঁর কাছে। পরাজয়টা কিছুতেই ভুলতে পারছেন
না তিনি, ‘গত বছর ‘এ’ দলে আমাদের কয়েকজনকে ভারত সফরে পাঠানো হয়েছিল
মাঠ-কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নিতে। বেঙ্গালুরুতেই একটা সেঞ্চুরি পেয়েছিলাম।
মাঠ সম্পর্কে আমার ভালো ধারণাই ছিল। দুর্ভাগ্য, পরিচিত মাঠেই সবচেয়ে কষ্টের
হারটা হারলাম (ভারতের বিপক্ষে)। ওই ম্যাচের পর আমরা কেউ ঘুমাতে পারিনি।
বুঝতেই পারছেন, কী কষ্টটা পেয়েছিলাম!’ টি-টোয়েন্টিতে সাফল্য পেলেও সাব্বির
এই সংস্করণেই মজে থাকতে চান না। তাঁর স্বপ্নের পরিধি আরও বড়, ‘সব
ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে টেস্ট খেলার। আমারও একই স্বপ্ন। টি-টোয়েন্টি খুবই
ভালো লাগে। কিন্তু ছেলেবেলা থেকে স্বপ্ন দেখছি টেস্ট খেলার।’ ২৩টি ওয়ানডে ও
২৬টি টি-টোয়েন্টি খেলা সাব্বিরের এখনো টেস্ট খেলা হয়নি। যদিও তাঁর পরে
আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া সৌম্য সরকার-লিটন দাস খেলে ফেলেছেন ৩টি করে টেস্ট।
টেস্টে সাব্বিরের সম্ভাবনা নিয়ে বিসিবির অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার
একবার বলেছিলেন, ‘তার টেকনিক ভালো। মেজাজ-মানসিকতায় আরেকটু বদল আনতে পারলে
টেস্টেও ওর ভালো সম্ভাবনা আছে।’ সাব্বিরও নিশ্চয়ই সেই সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল
করে টেস্ট স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।

No comments:
Post a Comment