Thursday, April 7, 2016

ওয়েডসন-এমেকার আগে জুনাপিউ

হ্যাটট্রিক করেছেন ওয়েডসন (ডানে), ২ গোল করেছেন এমেকা
ডার্লিংটন। এই যুগলবন্দীতেই স্বাধীনতা কাপে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে
৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে শেখ জামাল ধানমন্ডি।
গোলরক্ষক পোস্টে নেই। অনেকটা সামনে ছুটে গেছেন। তাঁকে কাটিয়ে অনেকটা দৌড়ে এসে ফাঁকা পোস্টে বলটাই শুধু পাঠাতে বাকি। কিন্তু গোললাইনের সামনে এসে সিও জুনাপিউ ইচ্ছা করে শুয়ে পড়লেন হঠাৎ। তারপর মাথা দিয়ে গোত্তা মেরে বল ঠেললেন জালে! ফুটবলে মাঠে এমন গোল আছে কি না, মনে করা কঠিন। এই অপরিচিত দৃশ্যের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে কাল পরিচয় করিয়ে দিলেন রহমতগঞ্জের কঙ্গোলিজ স্ট্রাইকার। ফেনী সকারের গোলরক্ষক ওসমান গনিও বোধ হয় সারা জীবন এই গোলের কথা ভুলবেন না। জুনাপিউর ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও স্বাধীনতা কাপে কাল সকারকে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ। দিনটা আসলে ছিল বিদেশিদের। দ্বিতীয় ম্যাচে শেখ জামাল যে ৫-০ গোলে হারিয়েছে ব্রাদার্সকে, সব কটি গোলই দুই ভিনদেশির। ওয়েডসনের ৩ গোল, এমেকা ডার্লিংটনের দুটি। প্রথম ম্যাচে সকারের দুটি গোলই ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার থুয়াম ফ্রাঙ্কের। শুধু রহমতগঞ্জের প্রথম গোলটি একজন বঙ্গসন্তানের—সোহেল মিয়া। দুই ম্যাচের ১০ গোলের ৯টিই বিদেশিরা করা মানে স্থানীয়রা যে বরাবরের মতো আড়ালে, সেটি পরিষ্কার। বিশেষ করে শেখ জামাল তো গোলের জন্য পুরোপুরিই নির্ভরশীল বিদেশিদের ওপর। কাল ব্রাদার্স ভালো খেলতে পারেনি মোটেও। রক্ষণে বড় বড় ফাঁক বেরিয়েছে, যা কাজে লাগাতে ভুলে করেননি ওয়েডসনরা। ওয়েডসনের গোল তিনটি ২০, ৭১ ও ৮৪ মিনিটে। এমেকার ২৩ ও ৭৪। ৫ গোলের সব কটিই মোটামুটি সুন্দর গোল। এর মধ্যে ২-০ হওয়া এমেকার গোলটিই আলাদা করে মনে রাখার মতো। ওয়েডসনের ঠেলে দেওয়া বল এমেকা বক্সে ঢুকে প্লেসিং করেন। মজার ব্যাপার, এমেকার পাস থেকে ওয়েডসন গোল করেছেন, আবার ওয়েডসনকে বল তৈরি করে দিয়েছেন এমেকা। দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। যা নিয়ে প্রশংসা করলেন কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকও, ‘ওরা একে অন্যকে বুঝতে পারে। ফলে গোল বের করতে পারে এবং আজ ওরা সফল।’ ল্যান্ডিং একটু নিষ্প্রভ থাকলেও ওয়েডসনের হ্যাটট্রিকের গোলটি তাঁরই সাজিয়ে দেওয়া। প্রতিপক্ষ রক্ষণকে এলোমেলো করে দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করেন ওয়েডসন। মাঠের বাইরে নানা বিতর্ক তাড়া করছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। আট ফুটবলারকে নিজেদের দাবি করে দলটির দায়ের করা মামলা এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তবে মাঠে সেসবের প্রভাব পড়তে দিচ্ছেন না ফুটবলাররা। আরামবাগকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুরুর পর ৫-০। টানা দুই জয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ারই কথা লিগ চ্যাম্পিয়নদের।

No comments:

Post a Comment