![]() |
| পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এমন দৃশ্য আগে দেখেনি। গতকাল পার্ক সার্কাস ময়দানে এক মঞ্চে রাহুল গান্ধী ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য |
একই
মঞ্চে সিপিএম পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য ও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এবং কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহসভাপতি রাহুল গান্ধী।
তাও কোনো সরকারি বৈঠকে নয়, একেবারে রাজনৈতিক জনসভা; যেখানে দাঁড়িয়ে দুই
নেতাই একযোগে কংগ্রেস এবং সিপিএমের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইছেন।
পশ্চিমবঙ্গবাসী আগে কখনো এমন দৃশ্য দেখেনি। সভার শুরুতে প্রদেশ কংগ্রেস
সভাপতি অধীর চৌধুরী ঠিকই বলেছেন, ‘আজ (গতকাল বুধবার) পার্ক সার্কাস
ময়দানের জনসভায় উপস্থিত মানুষেরা এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে
চলেছেন।’ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও বললেন, ‘এটি একটি বিরল দৃশ্য।’এর আগে
কংগ্রেস ও বামপন্থীরা জোট করলেও একই মঞ্চ থেকে প্রচার করার ব্যাপারে
সিপিএমের একাংশের মধ্যে যে অস্বস্তি রয়েছে তা বিমান বসু স্পষ্ট করে
দিয়েছিলেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র অবশ্য তা উপেক্ষা করে
কংগ্রেসের মানস ভূঁইয়া ও অন্য নেতাদের সঙ্গে পদযাত্রা ও যৌথ সভা করতে
শুরু করেন। মঙ্গলবারই সূর্যকান্ত দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরে মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে কংগ্রেসের সোমেন মিত্রের সঙ্গে
যৌথ সভা করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় ক্যানিংয়ে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া
গান্ধীর মঙ্গলবারের জনসভায় তাঁর সঙ্গেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের ওই
জেলার সম্পাদক সুজন চক্রবর্তী। কিন্তু তা সত্ত্বেও অস্বস্তি লুকোনো যাচ্ছিল
না। মমতার টাটা ও বামফ্রন্ট সরকার বিরোধী আন্দোলনখ্যাত সিঙ্গুরে সোমবার
একই মঞ্চ থেকে ভাষণ দেন কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী ও সিপিএমের
সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। কিন্তু এক সঙ্গে মঞ্চে ওঠেননি তাঁরা।
অধীর বক্তৃতা দিয়ে চলে যাওয়ার পরে সীতারাম মঞ্চে ওঠেন। পার্ক সার্কাস
ময়দানে সে সবকিছু হয়নি। বুদ্ধদেব ও রাহুল গান্ধী একই মঞ্চে পাশাপাশি
বসেন। নিজেদের মধ্যে হালকা আলাপ আলোচনা করেন। একসঙ্গে মালা গলায় দিয়ে ছবি
তোলেন। তারপরে পর পর দুজনে বক্তৃতায় তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা ও
নরেন্দ্র মোদিকে। তূণমূল কংগ্রেস ও বি জে পিকে। বুদ্ধদেব জোটের
প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বলেন, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ
করে রাজ্যে দুঃশাসন নামিয়ে আনার ফলে তার প্রতিরোধে সমস্ত মানুষ এক হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সবাই বুঝতে পারছে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটা ভয়ংকর বিপদের
সম্মুখীন। এখানে দুর্বৃত্তদের শাসন চলছে। সে জন্যই তাকে রুখতে সবাই এক জোট
হয়েছে। রাজ্য জুড়ে আওয়াজ উঠেছে, তূণমূল হটাও, বাংলা বাঁচাও।’ বুদ্ধদেবের
সুরে সংগত করে রাহুল গান্ধী বলেন, সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি, নারদ
কেলেঙ্কারি, উড়াল পুল ভেঙে পড়া, সব ক্ষেত্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দোষীদের শাস্তি দেওয়ার বদলে আড়াল করে চলেছেন। বুদ্ধদেব বলেন, পাঁচ বছরে
রাজ্যে একটাও নতুন কারখানা হয়নি। এ রাজ্যের ছেলেমেয়েদের কাজ পাওয়ার কী
হবে? রাহুল যোগ করেন, মমতা যে বলছেন, পাঁচ বছরে তাঁর সরকার ৭০ লাখ চাকরি
দিয়েছে। কোথায়? কোনো হদিস মিলছে না। মমতার তূণমূল কংগ্রেস ও মোদির
বিজেপিকে একসূত্রে গেঁথে বুদ্ধদেব বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা থেকে তূণমূলকে
সরালেই বিজেপিও দুর্বল হবে। এরা একসূত্রে বাঁধা, তাই তূণমূলকে হারানো মানে
বিজেপিকেও হারানো। রাহুল গান্ধী বিজেপি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন,
আগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা, কালো টাকা উদ্ধারের কথা বলতেন।
কিন্তু ক্ষমতায় এসে সে সব ভুলে গেছেন, কিছুই করছেন না। মোদি ও মমতা,
কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন দুজনেই।

No comments:
Post a Comment