![]() |
| সোনিয়া গান্ধী |
ইতালির
অগস্তা ওয়েস্টল্যান্ড সংস্থা থেকে হেলিকপ্টার কেনাবেচায় ঘুষ দেওয়ার
অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসকে কোণঠাসা করার কৌশলের বিরুদ্ধে একহাত নিলেন সোনিয়া
গান্ধী। তিনি বললেন, ‘বিজেপি চরিত্র হননের খেলায় মেতেছে। ওরা অসত্য কথা
বলছে। আমি ভীত নই।’ ঘুষের ওই অভিযোগের খবরকে কেন্দ্র করে গতকাল বুধবার
ভারতীয় সংসদ উত্তাল হয়ে ওঠে। গতকাল বিভিন্ন সংবাদপত্রে এ-সম্পর্কিত খবর
প্রকাশিত হয়। ঘুষ দেওয়ার অভিযোগবিষয়ক তদন্তে পেশ হওয়া তথ্যের ওপর
ভিত্তি করে ইতালির একটি আদালতের রায়ে সোনিয়া গান্ধী, তাঁর রাজনৈতিক সচিব
আহমেদ প্যাটেল, কংগ্রেসের নেতা অস্কার ফার্নান্দেজ, তৎকালীন অর্থমন্ত্রী
প্রণব মুখার্জিসহ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। গতকাল
রাজ্যসভায় সদ্য সদস্য হওয়া সুব্রমানিয়াম স্বামী এই প্রসঙ্গে সোনিয়া
গান্ধীর নাম উল্লেখ করামাত্রই কংগ্রেসের উত্তেজিত সদস্যরা সভার ওয়েলে নেমে
প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সভা মুলতবি করা হয়। স্বামীর
মন্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়। সকালেই সোনিয়া গান্ধীর দলের
শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, যেখানে ঠিক করা হয়, কংগ্রেসও পাল্টা
আক্রমণে যাবে। লোকসভায় এ নিয়ে আলোচনার জন্য কংগ্রেস নিজে থেকেই নোটিশ
দেয়। কিন্তু নোটিশটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তবে সভা থেকে বের হওয়ামাত্র
সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা সোনিয়াকে ঘিরে ধরেন। ক্ষুব্ধ সোনিয়া এ সময় বলেন,
‘আমি ভীত নই। আমার নাম নিয়েছে, নিক। আমাদের লুকোনোর কিছু নেই। ওদের
অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। সব অভিযোগ বানোয়াট। কারও কাছে কোনো প্রমাণ নেই।
ওরা চরিত্র হননের খেলায় নেমেছে।’ বিজেপির সরকারকে পাল্টা আক্রমণ করে
সোনিয়া বলেন, ‘আমাদের সময়ে ওই চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এরপর দুই বছর ধরে
ওরা ক্ষমতায়। তদন্ত চলছে। কেন ওরা দুই বছরেও তদন্ত শেষ করতে পারল না?’
আহমেদ প্যাটেল বলেন, ‘বিন্দুমাত্র প্রমাণ পেলে ওরা আমাকে ফাঁসিতে লটকাতে
পারে।’ ভিভিআইপিদের জন্য নতুন কিছু হেলিকপ্টার কেনার প্রস্তাব বিমানবাহিনী
প্রথম দেয় ১৯৯৯ সালে। ২০০২ সালে দরপত্র ডাকা হয়। ইতালির অগস্তা
ওয়েস্টল্যান্ড ভারতে ১২টি হেলিকপ্টার সরবরাহের আদেশ পায়। ২০১১-১২ সালে
জানাজানি হয়, ওই আদেশ পেতে ইতালীয় প্রতিষ্ঠানটি দালালের মাধ্যমে ৩৬০ কোটি
টাকা খরচ করেছে। ১২টি হেলিকপ্টারের মধ্যে তিনটি সরবরাহও করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment