Saturday, April 2, 2016

দুই সাবেক ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে কথা বলল তদন্ত কমিটি


রিজার্ভের অর্থ চুরি
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের হিসাব থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক দুই ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানা। তদন্তের প্রয়োজনে গতকাল দুপুরে তাঁদের ডেকে কথা বলেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনসহ অন্য সদস্যরা। এর আগে কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সেই অনুযায়ী, গতকাল নির্ধারিত সময়ে আলাদা আলাদাভাবে তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হন সাবেক দুই ডেপুটি গভর্নর।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় তদন্ত কমিটির জন্য নির্ধারিত কক্ষে প্রথমে নাজনীন সুলতানার সঙ্গে এবং পরে আবুল কাশেমের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় তাঁদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তে গত ১৫ মার্চ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক মোহাম্মদ কায়কোবাদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস। জানা গেছে, সাবেক দুই ডেপুটি গভর্নরের কাছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা জানতে চান কে, কবে, কীভাবে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাটি জেনেছেন এবং জানার পর কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ সময় তাঁরা তদন্ত কমিটিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। তবে তদন্ত কমিটির সঙ্গে কী বিষয়ে কথা হয়েছে, তা জানতে চাইলে দুজনের কেউই এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আবুল কাশেম ও নাজনীন সুলতানাকে গত ১৫ মার্চ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতিপ্রাপ্তির আগে আবুল কাশেম অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ ও নাজনীন সুলতানা আইটি অপারেশন ও কমিউনিকেশন বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। জানা গেছে, রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনার সময় তিনি যে পদে ছিলেন না, তা নাজনীন সুলতানা তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ২৪ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন ডেপুটি গভর্নরের পদ শূন্য ছিল। রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে (প্রকারান্তরে ৫ ফেব্রুয়ারি)। আর নাজনীন সুলতানা ও অপর দুই ডেপুটি গভর্নর পুনর্নিয়োগ পেয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ৮ ফেব্রুয়ারি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাশেম তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন, ৬ ফেব্রুয়ারি, শনিবার বেলা তিনটার দিকে তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনাটি জানতে পারেন। এর পরপরই তিনি তা তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানকে মুঠোফোনে অবগত করেন।
সাবেক দুই ডেপুটি গভর্নরের সঙ্গে কথা বলার আগে তদন্ত কমিটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগ, আইটি অপারেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন, ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি, ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগসহ কয়েকটি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেন। এদিকে, ফিলিপাইনে চলে যাওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সে দেশের সিনেটে চলমান শুনানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজকে সহায়তার জন্য দুজন কর্মকর্তাকে দেশটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনে সিনেটে শুনানি চলছে। বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার দেশটিতে গিয়েছিল। দু-এক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের দুই কর্মকর্তা ফিলিপাইনে যাবেন বলে জানা গেছে। গতকাল ওই দুই কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন গভর্নর ফজলে কবির। অন্যদিকে তদন্তের আওতায় আনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ল্যাপটপ জমা নেওয়ার সময়সীমা ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গতকাল ব্যাংকের এক দাপ্তরিক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

No comments:

Post a Comment