সরকার
বাধ্য করলেও সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটি ট্যানারিও চালু করার অবস্থায়
নেই। কয়েকটি ট্যানারি অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ প্রায়
শেষ করে এনেছে। তবে সেখানে এখনো গ্যাস-সংযোগ দেয়নি সরকার। ফলে আজ শুক্রবার
থেকে শিল্পনগরীর কোনো ট্যানারি চামড়া প্রক্রিয়াজাত শুরু করা যাচ্ছে না।
শিল্প মন্ত্রণালয় চাইছে, ট্যানারির মালিকেরা হাজারীবাগের বদলে সাভারে কাঁচা
চামড়া নেওয়া শুরু করুন। কাজ শুরু হলে যেসব সমস্যা সামনে আসবে সেগুলোর একে
একে সমাধান করা হবে। এ কারণে আজ থেকে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া ঢুকতে না
দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বহাল রেখেছে সরকার। এ জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে
চিঠি দেওয়া হয়েছে। সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি চালু করতে ৩১ মার্চ
পর্যন্ত মালিকদের সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। পরে ট্যানারির মালিকেরা আরও
কয়েক মাস সময় চাইলেও সরকার তাতে রাজি হয়নি। শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন
ভূঁইয়া গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত বহাল আছে।
এটা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে
চামড়া ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও তাতে বিশেষ কোনো সমস্যা
দেখছেন না ব্যবসায়ীদের একাংশ। তাঁরা বলছেন, কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে কয়েক মাস
সংরক্ষণ করা যায়। পুরান ঢাকার পোস্তায় সেটা করা যাবে। আর সাভারের
শিল্পনগরীতে ট্যানারির মূল যন্ত্র চালু না করলেও চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার
প্রাথমিক কাজগুলো করা যাবে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ)
সাধারণ সম্পাদক মো. শাখাওয়াত উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাভারে চার-পাঁচটি
ট্যানারি তাদের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ করেছে। কিন্তু গ্যাস-সংযোগ নেই।
গ্যাসের জন্য আবেদন করেছি। সরকার এখনো সংযোগ দেয়নি।’ শাখাওয়াত উল্লাহ আরও
বলেন, কাঁচা চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা বা প্রাথমিক কাজ সাভারে শুরু করা
সম্ভব। তবে সেখানে ট্যানারি কবে চালু হবে—এ অনিশ্চয়তা থাকায় ব্যবসায়ীরা
ঝুঁকি নিতে রাজি হবেন না। তবে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড
ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এম আবু তাহের মনে
করেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সাভারে ২৫-৩০টি ট্যানারি চালু হয়ে যাবে। চামড়া
শিল্পনগরী প্রকল্প কার্যালয়ের সর্বশেষ পর্যালোচনা অনুযায়ী, ১৪৩টি ট্যানারির
মধ্যে মাত্র একটি ট্যানারি পঞ্চম, একটি চতুর্থ ও আরেকটির তৃতীয় তলার ছাদের
নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় তলার ছাদের ঢালাই কাজ শেষ করেছে ১৩টি
ট্যানারি ও প্রথম তলার ছাদের ঢালাই শেষ করেছে ৪৩টি ট্যানারি। বাকি ৮৪টি
ট্যানারির অবকাঠামো নির্মাণকাজ একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। ওই প্রকল্পে
মোট ১৫৫টি ট্যানারিকে প্লট দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১২টি ট্যানারি মামলাসহ
বিভিন্ন জটিলতায় আছে। প্রকল্প কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্যানারিগুলোর
মধ্যে ১০৯টি বিদ্যুৎ-সংযোগের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে ডিমান্ড নোট দেওয়া
হয়েছে ৮৫টিকে। ৫৩টি ট্যানারি গ্যাস-সংযোগের জন্য আবেদন করেছে। ২৮টি
ট্যানারি এখন পর্যন্ত পানির সংযোগ চেয়েছে। চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের
পরিচালক আবদুল কাইয়ুম প্রথম আলোকে জানান, প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।
বর্জ্য পেলেই তাঁরা তা পরিশোধন শুরু করতে পারবেন। অবশ্য কেন্দ্রীয় বর্জ্য
পরিশোধনাগার (সিইটিপি) আংশিক চালু করতে সাড়ে ৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য
প্রয়োজন। যা না পেলে সিইটিপি চালু করা সম্ভব নয়। আবার একবার চালু করলে তা
বন্ধ করা যায় না। তাই বর্জ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা দরকার। ভয়াবহ পরিবেশ
দূষণের কারণে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো সাভারে সরিয়ে নিয়ে চামড়া শিল্পনগরী
প্রকল্প নেওয়া হয় ২০০৩ সালে। ওই শিল্পনগরীতে ট্যানারি মালিকদের প্লট বরাদ্দ
দেওয়া হয় ২০০৭ সালে। নানা কারণে ওই প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। সরকারও সিইটিপি
সময়মতো নির্মাণ করতে পারেনি। প্রায় দেড় বছর ধরে সরকার নিজের কাজ এগিয়ে নিয়ে
মালিকদের সেখানে যাওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment