Sunday, April 3, 2016

সাভারে চামড়া নেওয়া শুরু করেছে একটি ট্যানারি

সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর রিলায়েন্স ট্যানারিতে
ট্রাক থেকে কাঁচা চামড়া নামানো হচ্ছে।
সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানে চামড়া গেছে। গতকাল শনিবার শিল্পনগরীতে গিয়ে দেখা গেছে, রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেডে প্রায় এক হাজার কাঁচা চামড়া এনে জমা করেছে ট্যানারি কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রক্রিয়াজাত করার জন্য শিল্পনগরীতে চামড়া গেল। রিলায়েন্স জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) সঙ্গে সংযোগ পেলেই তারা চামড়া প্রক্রিয়াজাত শুরু করতে পারবে। অন্যদিকে হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোতে চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে সরকার। গতকালও পুলিশি প্রহরা দেখা গেছে হাজারীবাগের প্রবেশপথগুলোতে। তবে আগে কেনা চামড়া দিয়ে উৎপাদনকাজ চালু রেখেছে বেশির ভাগ ট্যানারি। রিলায়েন্সের মতো আরও কিছু ট্যানারি সাভারে চলে যাওয়ার কাজ বেশ এগিয়েছে। কেউ কেউ ভবন নির্মাণ প্রায় শেষ করেছে, কেউ কেউ ড্রাম ও যন্ত্রপাতি বসানো শুরু করেছে। তবে মোট ১৪৩টি ট্যানারির সিংহভাগের প্রস্তুতি সামান্য। তারা আশায় আছে যে সরকার হাজারীবাগে চামড়া ঢুকতে দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে। তাদের সমিতি বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি বিদেশ থেকে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তাঁরা। তবে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল শনিবারও বলেছেন, হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া ঢুকবে না। ব্যবসায়ীরা কী করবেন সেটা তাঁদের ব্যাপার। সময়ও বাড়ানো হবে না। সাভারে চামড়া শিল্পনগরীতে ট্যানারি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। এ সময়ের মধ্যে অবকাঠামো নির্মাণকাজের দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়েছে রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেড। সাভারে তারা চামড়া প্রক্রিয়াজাতের জন্য ড্রাম বসিয়েছে। কিছু যন্ত্রপাতি বসানোও শেষ হয়েছে। ট্যানারিটির পরিচালক ইসমাইল সিরাজী বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। এ জন্যই চামড়া কিনে সাভারে নেওয়া হচ্ছে। এখন আমাদের কারখানার সীমানা থেকে বর্জ্যের পাইপ সিইটিপির সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হলেই প্রক্রিয়াকরণ শুরু করা যাবে।’ ট্যানারির মালিকেরা জানান, অ্যাপেক্স ট্যানারি, আল-মদিনা ট্যানারি, প্রগতি লেদার কমপ্লেক্স, আজমেরী লেদারসহ আরও কয়েকটি ট্যানারি সাভারে তাদের কাজ এগিয়েছে। তবে তাদের যেতে এখনো অন্তত এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। বাকিদের প্রস্তুতি একেবারেই কম। জানা গেছে, ১০৯টি ট্যানারি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে ৮৫টিকে ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়েছে। টাকা জমা দিয়েছে মাত্র ৪টি ট্যানারি। ৫৩টি ট্যানারি গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করলেও পায়নি। পানির সংযোগের জন্য আবেদন করেছে ২৮টি ট্যানারি। গতকাল সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ঘুরে অর্ধশত কারখানার প্রথমতলা থেকে পঞ্চমতলা পর্যন্ত ছাদের ঢালাইয়ের কাজ শেষ হতে দেখা গেছে। অর্ধশতাধিক কারখানার অবকাঠামো নির্মাণকাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গতকাল দুপুরে হাজারীবাগে গিয়ে দেখা গেল, কারখানা থেকে ড্রাম বের করে ট্রাকে ওঠাচ্ছে ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিন লিমিটেড নামের একটি ট্যানারি। ওই ট্যানারির পরিচালক মো. জে এ খোকন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ড্রাম নেওয়া এক মাস আগে থেকে শুরু করেছি। কিছু ড্রাম বসানো হয়েছে। যন্ত্রপাতিও কিছুদিনের মধ্যে চলে যাবে।’ তবে দুই মাসের মধ্যে সাভারে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের প্রথম ধাপের (ওয়েট ব্লু) কাজ সাভারে শুরু করতে পারবেন বলে উল্লেখ করে ওই ট্যানারির মালিক বলেন, ‘আমরা চলে যেতে চাই। এ জন্য কিছুটা সময় দিতে হবে।’ প্রগতি লেদার কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আলম বলেন, ‘আমাদের এখন আর না যাওয়ার মনোভাব নেই। সাভারে ট্যানারির ভবনের কাজ প্রায় শেষ। কিছু যন্ত্র নেওয়া হয়েছে। এখনো যাচ্ছে। তবে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা এটি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বসব।’ নুরুল আলম বলেন, ‘কারও দুই মাস, কারও তিন মাস, কারও ছয় মাস সময় লাগবে। সরকারের প্রস্তুতিও বাকি আছে। সিইটিপির সঙ্গে কারখানার বর্জ্যের লাইনের সংযোগ লাগবে। গ্যাস লাগবে। শিল্পনগরীর রাস্তার উন্নতি করতে হবে। আমরা শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বসব। প্রয়োজনে তিনি গিয়ে দেখবেন সেখানে চামড়া নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের পরিচালক আবদুল কাইয়ুম বলেন, সিইটিপির ৮৬ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের কাজ বাকি রয়েছে। পুরো শিল্পনগরীতে ১৩ হাজার ২৭৮ মিটার পাইপলাইনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কারখানাগুলো সংযোগ নিয়ে বর্জ্য সরবরাহ করলেই সিইটিপি চালু করা সম্ভব। সিইটিপির সঙ্গে সংযোগের নির্মাণকাজটি কারখানা মালিককেই করতে হবে। তিনি বলেন, ২৮টি কারখানা চালুর উপযোগী। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে মাত্র একটি কারখানা। চারটি কারখানা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েছে।

No comments:

Post a Comment