Sunday, April 3, 2016

বেসরকারি খাতকেও দায়িত্ব নিতে হবে

বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন(বাঁ থেকে তৃতীয়)
গতকাল এমসিসিআই, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
ও এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক যৌথ সংলাপে বক্তব্য দেন
গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আন্তবাণিজ্য দিন দিন কমছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ভারত ও পাকিস্তানের আমদানি সবচেয়ে কম। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মাত্র দেড় শতাংশ যায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য-সংক্রান্ত দুই দিনব্যাপী সংলাপের প্রথম দিনে বক্তারা এ কথা বলেন। তাঁদের মতে, আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। শুল্ক ও অশুল্ক বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর এবং এসব দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ দেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে হবে। এ সংলাপ যৌথভাবে আয়োজন করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও এশিয়া ফাউন্ডেশন। রাজধানীর মতিঝিলের এমসিসিআই ভবনে এ সংলাপ অনুষ্ঠান হচ্ছে। সংলাপের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, এশিয়া ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশের প্রধান হাসান মজুমদার প্রমুখ। বাণিজ্যসচিব বলেন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তবাণিজ্য বৃদ্ধি করা খুবই জরুরি। রাজনৈতিক নেতারাও এ ধরনের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আগ্রহী। তবে আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু অশুল্ক বাধা রয়ে গেছে। এসব বাধা দূর করতে সম্মিলিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তারা বলেন, ২০০৬ থেকে ২০১৪ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক বাণিজ্য বেড়েছে ৫৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। এই বর্ধিত বাণিজ্যের মাত্র ১৫ বিলিয়ন ডলার আঞ্চলিক বাণিজ্য। অর্থাৎ বেশির ভাগই হয়েছে বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। বাণিজ্য বাড়াতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও দায়িত্ব নিতে হবে। গতকাল অনুষ্ঠিত চার অধিবেশনে উপস্থাপনাগুলো দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম রায়হান, সার্ক টিপিএনের জুবায়ের মালিক, বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. তৌহিদ হোসেন এবং বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্র্যাফিক) আমিনুল বর চৌধুরী।

No comments:

Post a Comment