Thursday, April 28, 2016

শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে মিছিল

বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে কুমিল্লা মডার্ন
হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা গতকাল নগরে মিছিল বের করে। দুপুরে
কান্দিরপাড় টাউন হলের সামনে থেকে তোলা ছবি
কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় নগরের কান্দিরপাড় এলাকায় বিদ্যালয়ের কয়েক শ শিক্ষার্থী মিছিল করে। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল মাঠে এসে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা ‘কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলে শিক্ষক অনুপস্থিত কেন, কর্তৃপক্ষ জবাব চাই’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে নগরে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে-অর্ডার) ৩৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক পক্ষ বলছে, পাঁচ মাস ধরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। আরেক পক্ষ বলছে, এমপিওভুক্তির সমপরিমাণ টাকা বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে গত সোম ও মঙ্গলবার শিক্ষকদের দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে। জানা যায়, বেতন-ভাতা উত্তোলন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে গত সোমবার বিকেল পাঁচটায় কুমিল্লা নগরের পুলিশ সুপার কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক কোহিনূর বেগম। সংবাদ সম্মেলনে কোহিনূর বেগম বলেন, ২০১৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে নগরের নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের ৩৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারী সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আফজল খান ও তাঁর স্ত্রী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস সুলতানা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ফরমে সই করছেন না। তিনি এমপিওভুক্ত ওই বিদ্যালয়কে আফজল খান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পরিচালিত করতে চান। এ জন্য সরকারি অংশের বেতন তুলতে দিচ্ছেন না। ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলপিআরে যাবেন। তখন তাঁরা একসঙ্গে সরকার থেকে বহু টাকা পাবেন। কিন্তু বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক অন্য শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চাকরি ২০১০ সালে শেষ হয়ে যায়। এরপরও তিনি বেআইনিভাবে ওই পদে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত সোমবার থেকে ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা ক্লাস বর্জন শুরু করেন। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বিদ্যালয়ের প্রভাতি শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক সহিদুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির সমপরিমাণ টাকা বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে। গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল এ কাজ করছে। চাকরি থেকে বহিষ্কৃতরা ও গুটিকয়েক শিক্ষক এ ধরনের অভিযোগ এনেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস সুলতানা ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আফজল খান। অভিযোগ প্রসঙ্গে কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আফজল খান বলেন, ‘বিদ্যালয়টিকে আমরা একটি ফাউন্ডেশনের আওতায় আনতে যাচ্ছি। এ কারণে এমপিওভুক্তি বাতিল করতে চাই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সরকারি বিধি মোতাবেক বেতন দেওয়া হবে। পে-স্কেলও দেওয়া হবে। এরপরও তাঁরা আন্দোলন করছেন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি চাকরি শেষ হওয়ার পরও প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহাল রেখেছে। তিনি কোনো বেতন-ভাতা নিচ্ছেন না। কোহিনূর বেগম এখন আর এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন। বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি কমিটি তাঁকে চাকরিচ্যুত করেছে। বিদ্যালয়টি নিয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।’ এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক কোহিনূর বেগম বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমি এখনো ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আফজল খান আমাকে অযৌক্তিকভাবে চাকরিচ্যুত করেন।’ প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দুই পালায় প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

No comments:

Post a Comment