Saturday, April 30, 2016

মূসক হার ১৫ শতাংশই থাকছে

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) নিয়ে ব্যবসায়ীদের দাবি নাকচ করে দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে চাই, এবার (আগামী অর্থবছর) ১৫ শতাংশই মূসক হার রাখছি। কিছুদিন দেখি। ব্যবসায়ীদের মধ্যে হিসাব রাখার অভ্যাস গড়ে ওঠা দরকার। ব্যবসায়ীরা হিসাব রাখতে পছন্দ করেন না। আমি অঙ্গীকার করছি, আমাদের মেয়াদকালেই একাধিক হারে মূসক চালু করব।’ গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত পরামর্শক সভায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে নতুন মূসক আইনে রেয়াতি হারে মূসক আরোপ এবং প্যাকেজ মূসক ব্যবস্থা চালু রাখার দাবি করা হয়েছে। এ দাবির পক্ষে সভাজুড়েই ব্যবসায়ীরা জোরালো বক্তব্য দেন। তবে সভার শেষ বক্তা হিসেবে অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের এ দাবি নাকচ করে দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় মূসক আইন নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি যদি হিসাব রাখেন, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না। মূল্য সংযোজনের প্রতি স্তরে মূসক আরোপ হবে। ভোক্তা পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক আরোপ হবে না।’ তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যেও অভিন্ন হারে মূসক আরোপ করা হয়েছিল। পরে তা একাধিক হারে বিভক্ত করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূসক আইন কার্যকর হবে। এ আইন বাস্তবায়ন হলে পণ্য ও সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা এ মূসক হারের বিরোধিতা করে আসছেন। গতকালের পরামর্শক সভায় এ দাবি জানিয়ে আলাদা উপস্থাপনা দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। সেখানে টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায় পর্যায়ে বিদ্যমান প্যাকেজ মূসক ব্যবস্থা ২০২১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। এফবিসিসিআইয়ের প্রস্তাব হলো, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮ হাজার টাকা; অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪ হাজার টাকা; জেলা শহরের পৌর এলাকায় ১০ হাজার টাকা এবং দেশের অন্য এলাকা ৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন খাতওয়ারি সংকুচিত ভিত্তিমূল্যে বিভিন্ন হারে মূসক আরোপের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহালের প্রস্তাব করেছে এফবিসিসিআই। কিন্তু অর্থমন্ত্রী এসব দাবি নাকচ করে দেওয়ার পরও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন মূসক আইন বাস্তবায়ন হলে ব্যবসায়ীরা আনন্দে ব্যবসা করতে পারবেন কি না, এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য চাই।’ এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন একটি বাজেট দিতে চাই, যেখানে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে। এ জন্য উচ্চ অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হবে।’ এর আগে আলোচনা পর্বে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, মূসক আইন নিয়ে এমন কিছু করবেন না যা ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে। এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু মোতালেব বলেন, প্যাকেজ মূসক ব্যবস্থা বহাল রেখে নতুন আইন বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। সরকারের বিরুদ্ধে একটি মহল রাস্তায় নামবে। এতে সরকারের ক্ষতি হবে।

No comments:

Post a Comment