নতুন
মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনকে জটিল উল্লেখ করে কার্যকরের আগেই শিল্পপতি ও
ব্যবসায়ীরা এর সংশোধন দাবি করেছেন। আগামী ১ জুলাই থেকে এ আইন কার্যকর করলে
মূসক আদায় কঠিন হবে বলেও মনে করেন তাঁরা। গতকাল সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী
তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাণিজ্যসহায়ক পরামর্শক কমিটির সভায়
ব্যবসায়ীরা এ দাবি জানান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এতে প্রধান
অতিথি ছিলেন। সভায় নানা বিষয়ে আলোচনা উঠলেও বেশি কথা হয় মূসক আইন ও গ্যাসের
দাম নিয়ে। ব্যবসায়ীদের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেও অর্থমন্ত্রী বলেন,
মূসক আইনের যেসব বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে তিনি
তাঁদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যত বক্তব্যই দেন
না কেন, বেশির ভাগ কথাই এসেছে কিন্তু মূসক নিয়ে।’ বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক
সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, ব্যবসায়ীরা
মূসক দিতেই চান। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর নির্দেশে মূসক আইন নিয়ে জাতীয় রাজস্ব
বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেও কোনো সমাধান পাননি তিনি। নতুন
মূসক আইন জটিল এবং এর সংশোধনে এনবিআরও একমত হয়েছিল। কিন্তু সংশোধন হয়নি
এখনো। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, কারখানা চালাতে গিয়ে
ব্যবস্থাপনাবিষয়ক মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ থেকে আনতে হয়। এতে
বছরে ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। আগামী বাজেটে তাই কারিগরি শিক্ষায় জোর
দেওয়ার পরামর্শ তাঁর। এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন
বলেন, ‘আমাদের অভ্যাস হচ্ছে সমস্যা হওয়ার পর সমাধানের চেষ্টা করা। আগামী
বাজেট নতুন মূসক আইন না পুরোনো মূসক আইনে হবে, ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের
ব্যবসায়ীরা বুঝতে পারছেন না।’ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের
ভারপ্রাপ্ত সচিব নাজিমউদ্দিন চৌধুরী গৃহস্থালি ও গাড়ির ক্ষেত্রে গ্যাসের
দাম আবার বাড়বে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া
চলছে। রান্নার কাজ ও গাড়িতেই মোট গ্যাসের ২০ শতাংশ ব্যয় হয়ে যায়। অথচ এ
থেকে সরকার পায় মাত্র ১ হাজার ৩০ কোটি টাকা। অথচ এই পরিমাণ গ্যাস শিল্প
খাতে গেলে ৮০ হাজার কোটি টাকার সুবিধা পাওয়া যেত।’তবে সার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ
প্রকল্প উৎপাদনের ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আপাতত কোনো চিন্তা নেই বলে
জানান জ্বালানিসচিব। এ সময় অর্থমন্ত্রী জ্বালানিসচিবের কাছে জানতে চান,
এলএনজি টার্মিনাল কবে হবে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমার কথা
জানিয়ে সচিব বলেন, ‘চুক্তি হয়ে গেছে। শিগগির ক্রয় কমিটিতে উপস্থাপন করা
হবে।’ অর্থমন্ত্রী তখন সবাইকে সময়সীমাটা মনে রাখতে বলেন। এ সময় তোফায়েল
আহমেদ বলেন, ‘অনেকেই বলেন দাম যা-ই হোক গ্যাস চাই। শেভরন থেকে যে দামে কেনা
হবে, অন্তত সে দামে গ্যাস দেওয়া যাবে কি না।’ জবাবে ভারপ্রাপ্ত
জ্বালানিসচিব বলেন, সহনীয় দামেই গ্যাস দেওয়া হবে। বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস
চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ক্যাপটিভ পাওয়ারের ৬০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি নিয়ে
ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ক্যাপটিভ পাওয়ারকে অদক্ষ অভিহিত করে এ থেকে উত্তরণের পথ
চান তিনি। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, আমদানি ও
উৎপাদন পর্যায়ে একই শুল্কহার করা হবে বলে তিনি শুনেছেন। সেটা হলে দেশীয়
শিল্প মার খাবে। উইমেন চেম্বারের সভাপতি সেলিমা আহমাদ বলেন, ঋণ নিতে গেলে
শুরুতেই ব্যাংক জানতে চায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ আছে কি না। নারী
উদ্যোক্তাদের জন্য যে থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে, তা ছাড় করার দাবি জানান তিনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আগামী বাজেট হবে অধিকতর ব্যবসা,
শিল্প, বিনিয়োগ ও জনবান্ধব বাজেট। বাণিজ্যমন্ত্রী ই-কমার্স নীতিমালা প্রণয়ন
এবং মংলা বন্দরে গাড়ি আটকে থাকার বিষয়টি শিগগিরই সমাধান করবেন বলে সভাতেই
ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment