![]() |
| বেন স্টোকসকে তাড়িয়ে ফিরছে টানা চার ছক্কার দুঃস্মৃতি |
কত
দিন যে বেন স্টোকসকে তাড়িয়ে বেড়াবে চারটি বলের দুঃখ! ভুলতে পারবেন কখনো?
ইডেন গার্ডেনের ফাইনালে শেষ ওভারে ইংল্যান্ড অলরাউন্ডারের হাতে বল তুলে
দিয়েছিলেন অধিনায়ক এউইন মরগান। চ্যালেঞ্জটা খুব কঠিনও ছিল না, ওভারে ১৮
রানের কম দিলেই হতো। তার ওপর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সেমিফাইনালেই শেষ ওভারে
মাত্র ৩ রান দেওয়ার আত্মবিশ্বাসও ছিল। কিন্তু সেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে
ফাইনালে পারলেন না স্টোকস! টানা চারটি ফুল লেংথ বল, টানা চার ছক্কা মেরে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন কার্লোস ব্রাফেট।
নিশ্বাস-দূরত্বে এসেও দ্বিতীয়বারের মতো সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপটা
হাতে নেওয়া হলো না ইংল্যান্ডের। একদিকে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের উৎসব,
পাশে মুখ ঢেকে মাথা নিচু করে বসে আছেন স্টোকস—এই ছবিটা হয়তো ক্রিকেটের
চিরকালীন শোকগাথার অংশ হয়ে গেছে। সে মুহূর্তটিতে আসলে কী মনে হচ্ছিল তাঁর?
‘মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপটা মাত্রই হাত থেকে চলে গেল! বিশ্বাসই করতে পারছিলাম
না। বুঝতেও পারছিলাম না কী করব! নিজের পায়ে ভর করে দাঁড়াতে অনেক সময়
লেগেছিল আমার। দাঁড়াতে ইচ্ছেও করছিল না। মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী যেন আমার
ওপর ভেঙে পড়ছে। বিধ্বস্ত লাগছিল!’—ইংলিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া
সাক্ষাৎকারে গত পরশু বলেছেন স্টোকস। রোববারের ওই ফাইনালের পর প্রায় এক
সপ্তাহ কেটে গেছে। অথচ ওই সময়ের অনুভূতিটা স্টোকসের কাছে এখনো যেন টাটকা।
সমর্থকেরা অনুপ্রাণিত করছেন, শেন ওয়ার্ন পর্যন্ত সহমর্মিতা জানিয়েছেন। পাশে
এসে দাঁড়িয়েছেন সতীর্থরাও। তবে তাঁদের জন্য খারাপও লাগছে স্টোকসের,
‘সতীর্থরা ও টিম ম্যানেজমেন্ট ওই অবস্থায় দ্রুতই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে
দিয়েছিল। কিন্তু আসলে কোনো কথাই তখন ভালো লাগেনি। ওরা আমাকে জড়িয়ে ধরে
এটুকুই বলেছিল, “কিছু হয়নি”। কীই-বা বলার ছিল ওদের!’ ‘ওই চার বলে কী কী
করতে পারতেন স্টোকস’—ফাইনালের পর এমন আলোচনায় ঢুকতে আর মন চাইছে না
ইংল্যান্ড অলরাউন্ডারের, ‘আমিও ভাবছিলাম ওই চার বলে ভিন্ন কিছু করতে পারতাম
কি না। হয়তো চারটি স্লোয়ার দিতে পারতাম, কিন্তু ওগুলোতেও ছক্কা হতে পারত।
তখন আবার হয়তো ভাবতাম, আমি চারটি ইয়র্কার কেন দিলাম না? তাই আমি পেছনে ফিরে
দেখতে চাই না, কিছু বদলানোরও তো আর নেই।’ পেছন ফিরে দেখতে চান না ঠিক
আছে, কিন্তু শিরোপার এত কাছে গিয়ে ‘রানার্সআপ’ পদক নিয়ে ফেরাটা স্টোকসদের
জন্য সান্ত্বনা হতে পারে না। তবে দেশের হয়ে দুর্দান্ত একটা টুর্নামেন্টের
গৌরব ঠিকই স্টোকসকে ছুঁয়ে যাচ্ছে এবং সেটিই প্রেরণা জোগাচ্ছে
দুর্দান্তভাবে ফিরে আসার, ‘হতাশা আপনাকে আরও ভালো হতে প্রেরণা দেয়। এটা
অবশ্যই আমার মনে থাকবে, অনেক দিন। প্রেরণাও দেবে যেন এমন কিছু আর না হয়।’
সেটি নিশ্চিত করার মন্ত্রটা স্টোকস জানেন, ‘অনুশীলনে আরও ১০ মিনিট বেশি
সময় দাও, আরও ভালো হও।’ সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

No comments:
Post a Comment