![]() |
| বিজয় মালিয়া |
খেলাপি
ঋণে অভিযুক্ত ভারতীয় ব্যবসায়ী ও রাজ্যসভার সদস্য বিজয় মালিয়াকে দেশে
ফেরানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। তাঁর পাসপোর্ট ইতিমধ্যেই অকার্যকর করা
হয়েছে। তিনবার সমন জারি সত্ত্বেও হাজির না হওয়ায় মুম্বাইয়ের আদালত তাঁকে
গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় মালিয়াকে দেশে ফেরানোর জন্য উদ্যোগী
হতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে অর্থনৈতিক অপরাধবিষয়ক
তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। দেশের ১৭টি
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ৯ হাজার কোটি টাকার দেনা না মিটিয়ে মালিয়া গত
মার্চে হঠাৎ যুক্তরাজ্যে চলে যান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ
স্বরূপ গত শুক্রবার জানান, মালিয়াকে দেশে ফেরত আনার জন্য ইডি অনুরোধ
করেছে। সরকার তাঁকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।
এ জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। বিকাশ স্বরূপ আরও বলেন, ফেরত আনা ও
প্রত্যর্পণের মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রত্যর্পণের জন্য চুক্তির দরকার। কিন্তু
ফেরত আনতে চুক্তির প্রয়োজন নেই। তবে যুক্তরাজ্য সরকার ভারতীয় অনুরোধ
অনুযায়ী কী ব্যবস্থা নেবে, সে জল্পনায় তিনি যেতে চাননি। ভারতীয় স্টেট
ব্যাংক মালিয়াকে ঋণ শোধে অনাগ্রহী ঘোষণা করলেও সম্প্রতি এক খবরে জানা
গেছে, মাত্র গত মাসেই নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে বিখ্যাত ট্রাম্প প্লাজার
পেন্টহাউসের বকেয়া পাওনা এক কোটি ডলার মালিয়া চুকিয়ে দিয়েছেন। কন্যা
তানিয়ার জন্য এটি কিনেছিলেন তিনি। কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হলেও ‘কিং
অব গুড টাইমস’ বিজয় মালিয়া ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে
প্রাপ্য সব সরকারি অর্থকড়ি কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নিতে ভুল করেননি। তথ্য জানার
অধিকার আইনে জানা গেছে, সাংসদ হিসেবে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন নিয়মিত
নিয়েছেন তিনি। কেন্দ্র ভাতা হিসেবে প্রথমে ২০ হাজার পরে মাসিক ৪৫ হাজার
টাকা নিতেও ভুল করেননি। এমনকি মাসে ছয় হাজার টাকার অফিস খরচ, পরে যা বেড়ে
১৫ হাজার টাকা হয়, তা-ও বুঝে নিয়েছেন। আইপিএলের মস্তিষ্ক হিসেবে বিবেচিত
ললিত মোদিকে ভারত এখনো যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আনতে পারেনি। বিজয় মালিয়াকে
কি পারবে? এ প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়,
ললিতের ক্ষেত্রে কিছু ভুল হয়েছিল। মালিয়ার ক্ষেত্রে সে ভুল আর সরকার করবে
না।

No comments:
Post a Comment