![]() |
| তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়া এলাকার শিশুদের নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হয় |
আজ
২৬ এপ্রিল। ঠিক ৩০ বছর আগে ১৯৮৬ সালের এই দিনে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের
চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঘটে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের
ঘটনা। আড়াই যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো বেলারুশের সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের
চেরনোবিল এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোকে নিরাপদ বলতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এসব এলাকার জলে-স্থলে-বাতাসে, এমনকি গবাদিপশুর দুধেও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক
বেশি মাত্রায় তেজস্ক্রিয়তা মিলছে। বেলারুশের সীমান্তবর্তী বর্তমান
ইউক্রেনের ভূখণ্ডে অবস্থিত এই চেরনোবিল শহর। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক ইভেন্ট
স্কেলে বিস্ফোরণের এ ঘটনাকে ‘লেভেল-৭’ এর দুর্যোগ বলে চিহ্নিত করা হয়।
বিস্ফোরণে মারা যায় ৩১ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হন পরমাণুকেন্দ্রটির কর্মী,
উদ্ধারকর্মীসহ প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। ঘটনার ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো
চেরনোবিল এবং এর আশপাশের এলাকার জল-স্থল-বাতাসে নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক
বেশি তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিকতম এক ল্যাব পরীক্ষায় জানা গেছে,
ওই এলাকার গবাদিপশুর দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি তেজস্ক্রিয়তা
পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মাটির নমুনাতেও মিলেছে ক্যানসার সৃষ্টিকারী তেজস্ক্রিয়
পদার্থ। বেলারুশের সরকার পরিচালিত মিনস্ক সেন্টার ফর হাইজিন অ্যান্ড
এপিডেমিওলজির তথ্যমতে, খাদ্য ও পানীয়তে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭ বেকেরেল
তেজস্ক্রিয়তা অনুমোদনযোগ্য। তবে সাম্প্রতিকতম পরীক্ষাটি বলছে, দুধের নমুনায়
৩৭ দশমিক ৫ বেকেরেল তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেছে। এসব তেজস্ক্রিয় পদার্থের
মধ্যে স্ট্রনসিয়াম-৯০, সিজিয়াম-১৩৭, আমেরিসিয়াম ও প্লুটোনিয়াম অন্যতম।

No comments:
Post a Comment