Sunday, April 3, 2016

মাসুদ আজহারকে জাতিসংঘ নিষিদ্ধ না করায় হতাশ ভারত

মাসুদ আজহার
পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠন জয়শ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার জাতিসংঘের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত না হওয়ায় ভারত হতাশ। গতকাল শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। মাসুদ আজহারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আনা এক প্রস্তাবে একেবারে শেষ মুহূর্তে চীন আপত্তি জানায়। পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে তারা ভেটো দেওয়ায় পাঠানকোট-কাণ্ডের এই ‘হোতা’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সম্ভব হলো না। প্রস্তাবটি পাস হলে মাসুদ আজহার ও তাঁর সংগঠনের পক্ষে প্রকাশ্যে থাকা সম্ভব হতো না। সংগঠনের চাঁদা তোলাও কঠিন হয়ে পড়ত। ওই জঙ্গির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের ওপরও চাপ বাড়ত। ১৫ বছর ধরেই জয়শ-ই-মোহাম্মদ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত। ২ জানুয়ারি ভারতের পাঞ্জাবের পাঠানকোটে বিমানঘাঁটিতে হানা দিয়ে সংগঠনটি বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের কাজকর্ম এখনো ভারতকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই জঙ্গি সংগঠনের হোতা নিষিদ্ধ না হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এর প্রভাব পড়বে বলে ভারত মনে করছে। চীনের যুক্তি, প্রস্তাব সমর্থনের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না। তা ছাড়া এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে যে নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত, এ ক্ষেত্রে তা হয়নি। ভারত হতাশ ও অসন্তুষ্ট হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পাকিস্তান বা চীন কোনো দেশেরই নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে চীন এ কাজের মধ্য দিয়ে যে পাকিস্তানকে আড়াল করছে এবং এর ফলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সার্বিক যুদ্ধ করা যে সম্ভব হচ্ছে না, ভারত তা বুঝিয়ে দিয়েছে। বরং সন্ত্রাসের মোকাবিলা যে বেছে বেছে করা হচ্ছে এবং সেটা যে অভিপ্রেত নয়, ভারতের সেই মনোভাবও বিবৃতিতে স্পষ্ট। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে মার্কিন ও চীনা প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্ব নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনো এক দেশের নিজস্ব সমস্যা, এমন ধারণা বদলাতে হবে। এ ধারণাও বদলানো প্রয়োজন যে ‘তোমার চোখে যে সন্ত্রাসী, আমার চোখে সে সন্ত্রাসী নয়’। মোদি আরও বলেছিলেন, সন্ত্রাস সর্বব্যাপী, কিন্তু তার মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছা সর্বব্যাপী নয়। চীন নিজেও সন্ত্রাসের শিকার। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের শিনজিয়াং প্রদেশ বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসকবলিত। পাকিস্তানের সন্ত্রাসীদের মদদও শিনজিয়াংয়ের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাচ্ছে। তবু মাসুদ আজহার প্রসঙ্গে পাকিস্তানের পাশে চীন কেন দাঁড়াল? এর একটা কারণ যদি হয় ব্যবসায়িক স্বার্থ, অন্যটি ভারতের চাপ থেকে পাকিস্তানকে রক্ষা করা।

No comments:

Post a Comment