![]() |
| ব্রাফেট |
চারটি
বল তাঁর ক্যারিয়ারকে নিয়ে গেল কী এক নতুন বাঁকে! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
ফাইনালের শেষ ওভারের আগে-পরে কার্লোস ব্রাফেটের জীবন সম্ভবত অনেক বদল
দেখেছে। বেন স্টোকসের করা ওভারটির প্রথম চার বলে চারটি ছক্কা মেরে ওয়েস্ট
ইন্ডিজের শিরোপা জয়ের নায়ক ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। এরপর থেকে অনেক
প্রশংসা পাচ্ছেন, যেখানে যাচ্ছেন ক্যামেরা তাঁকে খুঁজে নিচ্ছে,
সেলফিশিকারি-ভক্তরা ভিড় করছে তাঁকে ঘিরে। তবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের
ক্রিকেটের এই সাফল্যে চোখ ঝলসে যাচ্ছে না ক্যারিবীয় অলরাউন্ডারের। তাঁর
চোখে এখন সব সংস্করণের ক্রিকেটে নিজের উন্নতি, বিশেষ করে টেস্টে। মজার
ব্যাপার, টি-টোয়েন্টি তাঁকে খ্যাতির চূড়ায় তুললেও এখন পর্যন্ত টেস্টেই
সবচেয়ে বেশি রান পেয়েছেন ব্রাফেট। বিশ্বকাপ ফাইনালের ওই ৩৪ রানের আগে ২০
ওভারের ক্রিকেটে তাঁর পরিসংখ্যান ছিল—৪ ইনিংসে ২৫ রান। ওয়ানডের ৭ ইনিংসে
৭১। তুলনায় টেস্টেই যা একটু ভালো করেছেন। গত বছর ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার
বিপক্ষে অভিষেক, তাতে ৩ ইনিংসে দুবার পেয়েছেন ফিফটির দেখা, করেছেন ১৩০ রান।
পাঁচ দিনের ক্রিকেটই ব্রাফেটের ভালোবাসা, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি টেস্ট
ক্রিকেট ভালোবাসি। টেস্টে বিরক্তিকর অংশগুলোও দেখতে ভালো লাগে—অনেক লম্বা
সময় ধরে একজন ব্যাটসম্যান ব্যাট করছে, সেঞ্চুরিও করছে। খেলাটার সব
সংস্করণের প্রতিটি অংশের সেরা দিকটাই দেখেছি আমি।’ তাঁর কাছে সব সংস্করণই
ভালো লাগে, তবে কার্লোসের খেলার ধরনের সঙ্গে টি-টোয়েন্টিই যেন বেশি যায়।
আইপিএলেও বেশ চড়া দামে তাঁকে কিনে নিয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। এখানে
ব্রাফেট পরামর্শক হিসেবে পাচ্ছেন ক্রিকেটের শুদ্ধতম ব্যাটসম্যানদের একজন
রাহুল দ্রাবিড়কে। ভারতীয় কিংবদন্তির কাছ থেকে ব্যাটিংয়ের কিছু বিষয়ে উন্নতি
করার ব্যাপারে পরামর্শও নিচ্ছেন বারবাডিয়ান ক্রিকেটার, ‘যে ক্রিকেটারকে
ক্যারিয়ারে আদর্শ মেনে এসেছি, সেই রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে বেশ
গর্ব বোধ করছি। আমি স্পিন খেলায় উন্নতি করতে চাই, এ ব্যাপারে রাহুলের
সঙ্গে কথাও বলছি।’ বিশ্বকাপের পর আইপিএল। এত টি-টোয়েন্টি খেলার পর আবার
টেস্টে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটাও ব্রাফেট নিচ্ছেন, ‘বিশ্বের সেরা
ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি থেকে ৫০ ওভার কিংবা টেস্ট ক্রিকেটে সহজেই মানিয়ে
নেয়। নিজেকে এই চ্যালেঞ্জই করি আমি, সব সংস্করণের ক্রিকেটে খেলতে হবে। আর
তিনটিতেই সফলও হতে হবে।’

No comments:
Post a Comment