![]() |
| আইপিএলে কেন নেই, জানেন না হার্শা |
ভারতের
খেলা হোক কিংবা আইপিএল—টেলিভিশনের ধারাভাষ্য কক্ষে সরব উপস্থিতি থাকে
তাঁর। শুধু নিজের দেশেই নয়, দেশের বাইরেও ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষক
হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হার্শা ভোগলে। কিন্তু ভারতীয় এই ক্রিকেট
ধারাভাষ্যকার নেই এবারের আইপিএলে। কেন, সেটা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। তবে
কাল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভোগলে আরও একবার জানিয়েছেন, কারণটা এখনো
তিনিও জানেন না! আইপিএলের জন্মলগ্ন থেকেই ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালন করে
আসছিলেন ভোগলে। এবারের নিলাম, বিজ্ঞাপন—সবখানেই ছিলেন তিনি। কিন্তু
টুর্নামেন্ট শুরুর এক সপ্তাহ আগে সনি নেটওয়ার্ক তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল
করে দেয়। অনেকের ধারণা, সদ্যসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত
ম্যাচে ধারাভাষ্যের সময় তাঁর মন্তব্যই এর কারণ। সেদিন মাত্র এক রানে হেরে
যাওয়ার পর মাশরাফির দলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন ভোগলে, যা ভালোভাবে
নিতে পারেননি অনেক ভারতীয়। তাঁর নাম উল্লেখ না করে পরোক্ষে সমালোচনা
করেছিলেন বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনও। পরে অমিতাভের সঙ্গে সুর
মিলিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি ও আরও কয়েকজন খেলোয়াড়।
আবার মনে করা হচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচের সময় ঘটে
যাওয়া একটি ঘটনাও কারণ হতে পারে। নাগপুরে সেদিন ইংরেজি ও হিন্দি
ধারাভাষ্য কক্ষ দুটি নিয়ে একটা সমস্যা ছিল, সেটি নিয়ে ভেন্যুর এক
কর্মকর্তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন হার্শা। সেটি পরে জানানো হয় ভারতীয়
বোর্ডের সভাপতি শশাঙ্ক মনোহরকে, যিনি নাগপুর ক্রিকেটেরও প্রধান। ধারণা করা
হচ্ছে, এ কারণেই হার্শার ধারাভাষ্যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বোর্ড। তবে আসল
কারণটা কী, এ নিয়ে এখনো অন্ধকারে আছেন হার্শা নিজেও। কাল ফেসবুকে
লিখেছেন, ‘আমি কেন আইপিএলে নেই, সেটা এখনো জানি না। আমাকে কিছু বলা হয়নি।
যদি এমন হয়, মানুষ আমাকে আর পছন্দ করছে না, আমি সেটা মেনে নিতে রাজি।
কিন্তু আশা করছি, ব্যাপারটা এমন নয় যে খেলোয়াড়দের অভিযোগের কারণে আমাকে
সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ ভোগলে না থাকায় অনেকেই তাঁকে মিস করছেন। টুইটারে
যেমন আরেক বলিউড অভিনেতা ঋষি কাপুরই লিখেছেন, ‘একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে
আমি মাইক্রোফোনের সামনে হার্শা ভোগলের অভাব অনুভব করব। বিসিসিআই, দয়া করে
আরেকবার ভাবুন। উনি একজন তারকা ধারাভাষ্যকার এবং খুব জ্ঞানীও।’ শুধু ঋষি
কাপুরই নন, ফেসবুক–টুইটার কিংবা খুদেবার্তায় আরও অনেকেই সমর্থন জানিয়েছেন
হার্শার প্রতি। ফেসবুকে তাঁদের সবাইকেই ধন্যবাদ দিয়েছেন হার্শা, ‘সত্যি
বলতে আমার খুব অস্বস্তি লাগছে। আমি ক্রিকেট ম্যাচের গল্প বলি, নিজে গল্পের
বিষয় নই। তারপরও এত এত মানুষ আমাকে সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন,
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।’

No comments:
Post a Comment