ভারতের
মহারাষ্ট্রে আদালতের রায়ের পরও মন্দিরে নারীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার নারী মানবাধিকার কর্মীদের একটি দল মহারাষ্ট্রের শনি শিংনাপুর
মন্দিরে প্রবেশ করতে গেলে তাঁদের বাধা দেয় স্থানীয় শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে
নারীরাও ছিলেন। খবর বিবিসি ও এনডিটিভির। মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন
রাজ্যের অনেক মন্দিরেই নিজস্ব প্রথা অনুযায়ী নারীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
রয়েছে। মহারাষ্ট্রের শনি শিংনাপুর মন্দিরে এই নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে গত
শুক্রবার বোম্বে হাইকোর্ট আদেশ দেন, মহারাষ্ট্রে সব মন্দিরে ঢুকে যেকোনো
স্থানে বসে প্রার্থনা করতে পারবেন নারীরা। আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই
শনিবার শনি শিংনাপুর মন্দিরে প্রবেশের জন্য গিয়েছিলেন নারী মানবাধিকার
কর্মীদের একটি দল। এই খবর পেয়ে মন্দিরের সামনে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ
স্থানীয় শতাধিক মানুষ। তাদের বাধায় নারী মানবাধিকার কর্মীরা সেখানে প্রবেশ
করতে পারেননি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। নারী
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, তাদের বাধা দিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করা হয়েছে।
শুক্রবার বোম্বে হাইকোর্ট এক আদেশে বলেন, মন্দিরে ঢুকে প্রার্থনা করা
নারীদের মৌলিক অধিকার এবং সরকারের দায়িত্ব হলো নারীদের এই অধিকার নিশ্চিত
করা। আদালতের এই আদেশের পর সংশ্লিষ্টরা বলছিলেন, এই আদেশের মধ্য দিয়ে
মহারাষ্ট্রে মন্দিরের মূল অংশে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকার শত বছরের
পুরোনো প্রথার অবসান হলো। আদালতের আদেশের পর মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকার জানায়,
তারা আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। এ জন্য
আইনও প্রণয়ন করবে। সেই আইনে মন্দিরে প্রবেশে কাউকে বাধা দেওয়া হলে ছয়
মাসের কারাদণ্ডেরও বিধান রাখা হবে। গত বছর মহারাষ্ট্রের আহমেদনগর জেলার
শনি শিংনাপুর মন্দিরে মন্দিরে ঢুকে প্রার্থনা করেছিলেন এক নারী। ওই নারী
প্রবেশ করায় মন্দিরে শোধন অনুষ্ঠান করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতজুড়ে
সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিক্ষোভে নামেন অনেক সমাজকর্মী। বিষয়টি হাইকোর্ট
পর্যন্ত গড়ায়।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment