![]() |
| বাসা–বাড়ির কলের পানিতে দুর্গন্ধ। তাই পাম্পের সামনে পানির জন্য পাত্র রেখে গেছেন এলাকার বাসিন্দারা। ছবিটি গত বৃহস্পতিবার বাসাবোর কদমতলা পাম্প থেকে তোলা |
রাজধানীর
বিভিন্ন স্থানে আবারও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাসাবোসহ
পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা, শাঁখারীবাজারসহ পুরান ঢাকা, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর,
বৃহত্তর মিরপুরের অনেক স্থানে পানির সমস্যা বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে পানির সংকটের
কথা জানা যায়। পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা বাসাবো, কদমতলা, আহম্মদবাগ, মুগদায়
পানির সংকটের পাশাপাশি পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ আগের তুলনায় বেড়েছে। অতীশ
দীপঙ্কর রোডের বৌদ্ধমন্দির, বাসাবো আগমনী সিনেমা হলের পাশের পাম্পস্টেশন
থেকে প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করেন কদমতলা, বাসাবো, আহম্মদবাগ ও আশপাশের
এলাকার হাজার হাজার মানুষ। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসাবো কদমতলা
ক্লাব পানির পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৪০ জন নারী-পুরুষ। সঙ্গে
শিশু-কিশোরও। অনেকে সেখানে উপস্থিত না থাকলেও কলসি, প্লাস্টিকের ড্রাম,
জারসহ পানির বিভিন্ন পাত্র সারি দিয়ে রেখেছেন।বয়োজ্যেষ্ঠ আবদুল গফুর পানির
পাত্রগুলোর সারিতে নিজের দুটি জার রেখেছেন। বারবার মুঠোফোনের দিকে
তাকাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর কোনো জরুরি ফোন আসার কথা কি না, জিজ্ঞেস করতেই
তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘না, ফোন আসবে না, ঘড়ির সময় দেখছি। পানি নিতে
গিয়ে জুমার নামাজের সময় না হয়ে যায়।’ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী রহিম
উল্লাহ বছরের বেশির ভাগ সময়ই পানি সংগ্রহ করতে এই পাম্পে আসেন বলে জানান।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওয়াসা দাবি করে যে পানির কোনো সমস্যা নেই।
ওয়াসার কর্মকর্তারা পানির পাম্পগুলোতে ঘুরে ভুক্তভোগীদের অবস্থা দেখলে
আর সে কথা বলতে পারতেন না।’ কদমতলা প্রাইমারি স্কুলের গলিতে ঠিকে বুয়ার কাজ
করেন আবুলের মা। তিনি তিনটি কলসি বসিয়েছেন অন্য পাত্রগুলোর সারিতে।
বললেন, ‘বিবি সাহেবেরা বাড়ির কামের থেইক্কা পানি আননের কামেই সারা দিন
খাডায়। ওই ব্যাডারা (ওয়াসার লোকেরা) কন সমে ভালা পানি দিব?’ মুগদা এলাকায়ও
একই অবস্থা। বিশুদ্ধ পানির জন্য মুগদা ওয়াপদা রোডের পাম্পে গতকালও
বিভিন্ন বয়সের মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে ভিড় করা বেশির ভাগ মানুষের
অভিযোগ তাঁরা ওয়াসার গ্রাহক হয়েও কেন দূষিত পানি পাচ্ছেন? নর্দমার পানির
গন্ধ কেন পানির লাইনে? ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম ভাট্টিকে এ বিষয়ে
প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা ঢাকা ওয়াসার কাজ, তাঁর
ব্যক্তিগত নয়। তবে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অভয় দাস লেন, আর কে মিশন রোড
এলাকায়ও বাসাবাড়িতে ওয়াসার ময়লা পানি আসছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।
কোনো কোনো বাড়িতে কল খুললে পোকা আসছে বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির
মালিকেরা। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে মাটির নিচের জলাধারও পরিষ্কার করছেন। তাতেও
কোনো ফল হচ্ছে না। ধানমন্ডি-৬, লালমাটিয়া বি ব্লক, উত্তরা,
মোহাম্মদপুর, মিরপুরে কিছু এলাকায় পানির সংকট চলছে কয়েক দিন ধরে।
লালমাটিয়ায় গত বৃহস্পতিবার সারা দিন পানি ছিল না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
তবে গতকাল পানি সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। ধানমন্ডি-৬-এ গতকালও অনেক বাড়িতে
পানি ছিল না। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড, মিরপুর-২-এ আহম্মদনগর, ১৪
নম্বরে এবং কাফরুল এলাকায় পানির সংকট চলছে। পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার,
পানিটোলা, ঝুলনবাড়ি, তাঁতীবাজার, গেন্ডারিয়ায় পানির কষ্ট আরও বেড়েছে।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান গতকাল
সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, বিভিন্ন স্থানে কিছু কিছু পকেট এলাকায় পানির
সংকট রয়েছে। প্রধানত গরমের জন্য এটা হচ্ছে। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের
অর্থায়নে মোটা পাইপ বসানো ও সংযোগের কাজে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায়ও
সমস্যা হচ্ছে। পুরান ঢাকা, বাসাবোসহ পূর্বাঞ্চলীয় কিছু এলাকায় পানির লাইন
ফুটো হওয়ায় পানিতে ময়লা ও গন্ধ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

No comments:
Post a Comment