Saturday, April 23, 2016

হাসপাতালে শিশুটিকে ফেলে গেছেন মা–বাবা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৫ নম্বর শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের ২ নম্বর বিছানায় (পর্যবেক্ষণ) শুয়ে আছে একটি ফুটফুটে নবজাতক কন্যাশিশু। চার দিন ধরে খোঁজ মিলছে না তার বাবা-মায়ের। চিকিৎসকের ধারণা, শিশুটিকে বাবা-মা ফেলে রেখে গেছেন। ১৬ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকায় চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে একটি অস্ত্রোপচারও করেছেন। এ কারণে এখনো কেবল স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির চিকিৎসার ব্যয় বহন করছেন শিশু সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকেরা। আর চিকিৎসক, নার্স, ব্রাদার, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, অন্যান্য চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনেরা মিলেমিশে দেখাশোনা করছেন শিশুটিকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবার নাম মনির। প্লাস্টিকের পাখা বানানো হয়—এমন একটি কারখানায় কাজ করেন তিনি। আর মায়ের নাম আসমা। এই শিশুটি ওই দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। প্রথম সন্তানও মেয়ে। শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান আশরাফুল হক প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটি ক্ষুদ্রান্তের সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়। বিনা খরচে অস্ত্রোপচার করে দেওয়া হবে—এমনটা বললেও শিশুটির বাবা-মা প্রথমে অস্ত্রোপচার করাতে চাননি। এক দিন পর শিশু সার্জারি বিভাগে অস্ত্রোপচার করান। আশরাফুল হক বলেন, অস্ত্রোপচারের দিন থেকেই শিশুটির বাবাকে দেখা যাচ্ছিল না। অস্ত্রোপচারের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত মা ছিলেন। বাচ্চা সুস্থ হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে—এমনটা জানানোর পর মা চিকিৎসকদের জানান যে তাঁর স্বামী বাচ্চাকে চাইছেন না। এ কথা বলার পর মা-ও উধাও হয়ে যান। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) খাজা আবদুল গফুর প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির বাবা চার দিন ধরে নেই বলে তিনিও শুনেছেন। তবে তাঁরা তাকে ফেলে রেখে চলে গেছেন, তা এখনই বলা যাবে না। শিশুটির সুস্থতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় বিষয়। অস্ত্রোপচারের পরে যেন কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়টি তাঁরা নজরে রেখেছেন।

No comments:

Post a Comment