ক্যারিবীয়
দ্বীপপুঞ্জে এখন নিশ্চয়ই উৎসবের জোয়ার বইছে। এমনিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের
মানুষ উৎসবপ্রিয়, সেই উচ্ছ্বাসে আরও রং চড়িয়ে দিলেন স্যামি-টেলররা। ওয়েস্ট
ইন্ডিজের ছেলে ও মেয়েদের দুটি ক্রিকেট দলই যে উঠে গেছে টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের ফাইনালে। আর একটি মাত্র ধাপ, সেটি পেরোতে পারলেই দু-দুটি বিশ্ব
শিরোপা। স্বপ্নটা পূরণ হবে কি না, কে জানে। তবে স্বপ্নে বিভোর ক্যারিবীয়দের
মুখের হাসিটা ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ড্যারেন স্যামি। অনেক দিন
ধরেই নিস্তরঙ্গ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটের বেলাভূমিতে হঠাৎ যেন বিশাল সব
ঢেউ আছড়ে পড়ছে। শুরু হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুবাদের হাত ধরে, ফেব্রুয়ারিতে
বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল দলটি। উপমহাদেশে
ক্যালিপসো সুরের ঝংকার ধরে রাখলেন বড়রাও। ভারতকে হারিয়ে গেইল-স্যামিরা
রোববারের ফাইনালে অপেক্ষা করছেন ইংল্যান্ড-চ্যালেঞ্জের জন্য। আর একই দিনে
স্টেফানি টেলরের নেতৃত্বে ক্যারিবীয় মেয়েরাও প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
শিরোপার জন্য লড়বে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েদের সঙ্গে। একটু আশ্চর্যই হতে হয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন সাফল্যে। শুধু ২০০৪ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আর ২০১২
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাদ দিলে ক্যারিবীয় ক্রিকেট অনেক দিন ধরেই বড়
আক্ষেপের নাম, ৭০-৮০-এর দশকের সর্বজয়ী দলটির কঙ্কাল মনে হতো দলটিকে। সেই
ওয়েস্ট ইন্ডিজই এখন ক্রিকেটের ‘ট্রেবলের’ অপেক্ষায়! ভারতের সঙ্গে জয়ের পর
আবেগটা ছুঁয়ে গিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক স্যামিকেও, ‘আমরা একটা লক্ষ্য
নিয়ে এখানে এসেছিলাম। বছরের শুরুর দিকে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাফল্য আমাদের
অনুপ্রাণিত করেছে। মেয়েরাও আজ (পরশু) আগের ম্যাচে জিতেছে, আর এখন ওয়েস্ট
ইন্ডিজের দুটি দল ফাইনালে!’ অথচ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এই প্রত্যাশা ছিল
দূরের বাতিঘরের মতো। মেয়েদের দল নিয়ে তো খুব একটা আশা ছিলই না। ছেলেদের
দলকেও পেরিয়ে আসতে হয়েছে অনেক প্রতিকূলতা। টুর্নামেন্টের আগে বেতন নিয়ে
বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই অনিশ্চিত ছিল। স্যামিদের
নিজেদের বিশ্বাসও কি অটুট ছিল? টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে হেরেও
ভারতকে দুই শ রানের নিচে বেঁধে রেখেই খুশি ছিল যারা, সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজই কী
প্রতাপে ভারতের ১৯২ রানের লক্ষ্যটা পেরিয়ে গেল সেমিফাইনালে! যে
আত্মবিশ্বাসে ভর করে স্যামি ঘোষণা দিতে পারেন, ‘একটা ধাপ বাকি আছে। রোববার
সেই ধাপটা সবচেয়ে ভালোভাবেই পেরোনোর চেষ্টা করব আমরা।’ সেটি করতে পারলে
ক্যারিবীয়দের ঘিরে থাকা রোমাঞ্চটা পূর্ণতা পাবে। স্যামিরা ফাইনালে ওঠার পরই
যে রোমাঞ্চে ভেসে গেছে ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ব্রায়ান
লারা ম্যাচের পরই টুইট করেছেন, ‘অসাধারণ! অসাধারণ! অসাধারণ! ওয়েস্ট
ইন্ডিয়ান হতে পেরে গর্বিত!’ রোমাঞ্চ ছুঁয়ে গেছে সাবেক অস্ট্রেলীয় পেসার
গ্লেন ম্যাকগ্রাকেও, ‘কী দুর্দান্ত ম্যাচ! এমনটা কখনো দেখিনি। আজকের
উদ্যাপনের রেশ কাটাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই দিন লেগে যাবে।’ ডোয়াইন ব্রাভোর
‘চ্যাম্পিয়ন’ গানের তালে ম্যাচের পর উদ্যাপন ঠিকই করেছিলেন গেইল-স্যামিরা।
তবে সেটি পূর্ণতা পাবে চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে। ক্যারিবীয় দ্বীপে উৎসবে মেতে
থাকা মানুষগুলোর মুখে হাসি ধরে রাখতে হবে না!
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment