Tuesday, April 5, 2016

৮০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে বসবাসরত ৮০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তাঁদের ফেরত পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রমে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে ইইউ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ান লেফলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতিনিধিদল আমাকে জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে মোট আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার অবৈধভাবে সেখানে বসবাস করছেন বলে তারা জানিয়েছে। তাঁদের পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়া ও অভিবাসন আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অবৈধ হয়ে পড়েন বলে ইইউ প্রতিনিধিদল তাঁকে জানিয়েছে। প্রতিনিধিদলের কাছে কোনো অনুরোধ রেখেছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি যে আমাদের দেশেও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তোমরা সহযোগিতা করলে আমরাও তাদের ফেরত পাঠাতে চাই। জবাবে তারা বলেছে যে তাদের (ইইউ) প্রতিনিধিদল মিয়ানমারে গেলে তাদের এ বিষয়টি নিয়ে ওই দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তারা বলবে।’ ক্রিশ্চিয়ান লেফলারের নেতৃত্বে ইইউ প্রতিনিধিদল দুপুরে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে দেখা করে। আলোচনার সময় অবৈধ অভিবাসন বন্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিকল্পনার ব্যাপারে তারা প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে অবহিত করে। প্রতিনিধিদলটি আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসছে। এতে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বাংলাদেশের এবং ক্রিশ্চিয়ান লেফলার ইইউ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। শহীদুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সংলাপে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অভিবাসনের নানা দিক এবং উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন বেড়ে যাওয়ায় আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ইইউ নতুন নীতিমালা তৈরি করতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ইইউর সদস্যদেশগুলোতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বাংলাদেশের যেসব লোকজন অবস্থান করছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা তুলবে ইইউ। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানাবে, ইইউর কাছে তালিকা পাওয়ার পর ওই সব লোকের পরিচয় যাচাই করা হবে। বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

No comments:

Post a Comment