বিশ্বব্যাংকের
সহায়তা পাওয়ার অন্যতম ভিত্তি হবে সুশাসনের উন্নতি। জবাবদিহি ব্যবস্থার
উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে
সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরকারি কেনাকাটা,
নিরীক্ষা ও সংসদীয় ব্যবস্থার তদারকি জোরদার করা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক)
প্রশাসন স্বয়ংক্রিয় করাকেই বেশি প্রাধান্য দেবে বিশ্বব্যাংক। গতকাল বুধবার
বাংলাদেশের জন্য তৈরি করা কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ)
অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সেই ফ্রেমওয়ার্কে এসব কথা বলা হয়েছে। ২০১৬-২০
মেয়াদে বাংলাদেশকে কীভাবে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে, এর কাঠামোই
হলো সিপিএফ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংক যে প্রকল্পগুলোতে
ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে, সেসব প্রকল্প যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
এটাকেই বিশ্বব্যাংক প্রাধান্য দেবে। বিশ্বব্যাংকের সিপিএফে বলা হয়েছে, নতুন
এ সিপিএফের আওতায় উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের বাধা দূর করার পাশাপাশি
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাংলাদেশ সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক আরও
বলছে, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণে বাংলাদেশের অন্যতম
পূর্বশর্ত কর্মসংস্থান। প্রতিবছর যে ২১ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন,
তাঁদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধির বাধা দূর
করতে হবে। এ বাধাগুলো হলো জ্বালানি-সংকট, পরিবহনব্যবস্থার দুর্বল
অবকাঠামো, জমির প্রাপ্যতা, দ্রুত নগরায়ণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু
পরিবর্তনের ঝুঁকি। প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক
উন্নয়ন এবং জলবায়ু ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ—এ তিনটি খাতকে
প্রাধান্য দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক।
কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কে (সিপিএফ) বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি
ত্বরান্বিত করতে এর বাধা দূর করতে বাংলাদেশকে সাহায্য করা হবে। বিশেষ করে
বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে আরও বেশি
অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া মানসম্পন্ন শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি,
স্বাস্থ্যসেবা আধুনিকীকরণ, বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা
নিশ্চিত করতে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ঝুঁকি মোকাবিলায় ব-দ্বীপ ব্যবস্থাপনার কৌশলের সঙ্গে সমন্বয় করে সহযোগিতা
করবে বিশ্বব্যাংক। জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অর্থনীতিতে
প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আবার উন্নয়ন হতে হবে
অন্তর্ভুক্তিমূলক। শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি যেন টেকসই হয়, সে জন্য জলবায়ু
পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের চ্যালেঞ্জগুলোর দিকে জোর দিতে হবে। দারিদ্র্য
বিমোচন ও মানব উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির
উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক
(সিপিএফ)। গতকাল বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফ্যান
বলেন, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দারিদ্র্য বিমোচন, ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন ও
উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বাংলাদেশ এর চেয়ে ভালো
করতে পারে। তিনি মনে করেন, টেকসই উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য কর্মসংস্থানকেই
সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির অর্জনের বাধাগুলো
দূর করতে সহায়তা করবে। সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও
বিশ্বব্যাংকের সিস্টেমেটিক কান্ট্রি ডায়াগনস্টিকের (এসসিডি) সঙ্গে সমন্বয়
করে সিপিএফ তৈরি করা হয়েছে। সিপিএফে আর্থিক সহায়তার কোনো প্রতিশ্রুতি থাকে
না। এখানে ঋণ ও কারিগরি সহায়তার কৌশলগুলোর উল্লেখ থাকে। তাই ২০১৬-২০ মেয়াদে
কী পরিমাণ ঋণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক তা সিপিএফে নেই।
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া সিংহভাগ সহায়তা বা নমনীয় শর্তের ঋণ আসে
বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে।
আগামী ২০১৭ সাল পর্যন্ত আইডিএ থেকে বাংলাদেশ কী পরিমাণ সহায়তা পাবে, তা
নির্ধারিত হয়ে আছে। পরের বছরগুলোতে আইডিএর মাধ্যমে বাংলাদেশ কত অর্থ পাবে,
তা এখনো ঠিক করা হয়নি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment