শাসকদল
তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাস আর বুথ দখলের মধ্য দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ
বিধানসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার।
রাজ্যের মুর্শিদাবাদে তৃণমূল কর্মীদের গুলিতে এক সিপিএম কর্মী নিহত হয়েছেন
বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজ্যের রাজধানী কলকাতার সাতটি আসনসহ মুর্শিদাবাদ,
নদীয়া ও বর্ধমান জেলার ৬২টি আসনে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গ্রহণ শুরু
হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।
মুর্শিদাবাদের ডোমকল কেন্দ্রের শিরোপাড়ায় একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে
সিপিএমের পোলিং এজেন্ট তৌহিদুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
তৌহিদুলের হত্যাকারীরা তৃণমূলের সন্ত্রাসী বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম।
দলটির রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র ডোমকলের ১৫টি কেন্দ্রের
পুনর্নির্বাচন দাবি করেছেন। এ ছাড়া সোমবার রাতে সন্ত্রাসী হামলায় আহত আরেক
সিপিএম কর্মী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে মারা যান। নূর
ইসলাম নামের ওই কর্মীর বাড়ি হাবড়ায়। গতকাল বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে তৃণমূলের
কর্মীরা বাম দল এবং কংগ্রেসের এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দিয়েছে বলে ওই জোটের
পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কলকাতার বেলেঘাটার অন্তত চারটি এবং
বেলগাছিয়ার পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে বাম এজেন্টদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
হরিহরপাড়া, কেতুগ্রাম ও গয়েশপুরেও একই ঘটনা ঘটেছে। হরিহরপাড়ায় কংগ্রেসের
কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। নদীয়ার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বোমা বিস্ফোরণ
ঘটিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়। সাগরদিঘী, রঘুনাথগঞ্জে বাম
দলের ওপর হামলা চালিয়েছে শাসকদল। বেলেঘাটায় আটক হয়েছে ভুয়া ভোটার।
বর্ধমানের খণ্ডকোষে ভোটারদের মারধর করেছে তৃণমূল। কেতুগ্রামে ব্যাপক
বোমাবাজি হয়েছে। সিপিএমের এক কর্মীর কান কেটে নিয়ে তাঁর পা ভেঙে দেওয়া
হয়েছে। কালনায় সিপিএমের ভোটের কার্যালয় ভাঙচুর হয়েছে। নির্বাচন কমিশন
সূত্রে বলা হয়েছে, দুপুরের মধ্যে তাদের কাছে এক হাজার অভিযোগ জমা পড়ে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিন দফায় এ পর্যন্ত ১৬৭টি আসনের নির্বাচন
সম্পন্ন হয়েছে। বাকি আছে ১২৭টি আসনের ভোট।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment