Sunday, April 3, 2016

চট্টগ্রামে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামীকে ধরে পুলিশে দিল জনতা

চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের নিচে মাজার-সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে গতকাল শনিবার দুপুরে জিন্নাত ফেরদৌস পপি (২৪) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই গৃহবধূকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জিন্নাত হত্যায় তাঁর স্বামী দিদারুল আলম জড়িত। হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামীকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। দিদারুল আলম আগে ব্যবসা করতেন। তবে বেশ কিছু দিন ধরে তিনি বেকার ছিলেন। সাত বছর আগে জিন্নাতের সঙ্গে বিয়ে হয় দিদারুলের। জিন্নাতের বাড়ি কুমিল্লায়। তাঁদের মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (ইকরা) পোস্তারপাড় স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। হত্যাকাণ্ডের সময় সে বাসায় ছিল না। প্রতিবেশী জাহান আরা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, দরজা বন্ধ করে দিদারুল আলম তাঁর স্ত্রীকে মারধর করছিলেন। জিন্নাতের চিৎকারও শুনেছেন। তিনি বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজন প্রায়ই ঝগড়া করতেন। তাঁদের বাসা থেকে তা শোনা যেত। আরেক প্রতিবেশী দিলশাদ বেগম বলেন, হত্যাকাণ্ডের আগে দিদারুল তাঁর মেয়ে ইকরাকে গৃহশিক্ষকের বাসায় পড়ার জন্য নিয়ে যান। এরপর বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া শুরু করেন তিনি। ঝগড়ার একপর্যায়ে আর্তচিৎকার শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমি জানালা দিয়ে জিন্নাতের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পাই। কিছুক্ষণ পর দিদারুল আলম পালানোর চেষ্টা করলে এলাকার লোকজন তাঁকে ধরে ফেলেন। এরপর পুলিশ এসে তাঁকে নিয়ে যায়।’ ইকরার শিক্ষক মনোয়ারা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দিদারুল আলম ইকরাকে পড়াতে বাসায় নিয়ে আসেন। আমি ইকরাকে পড়া দিয়ে গোসল করতে যাই। গোসল করে বের হওয়ার পরই শুনি ইকরার মাকে তার বাবা খুন করেছে। তখন এলাকার লোকজন হইচই করছিলেন। ইকরা আমার বাসা থেকে দৌড়ে নিজ বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে ইকরার মায়ের লাশ দেখতে পাই।’ ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বশির আহমদ খান প্রথম আলোকে বলেন, দিদারুল অনেক দিন ধরে কোনো কাজ করতেন না। নেশা করে ঘরে ঢুকলে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া হতো তাঁর। এর জের ধরে দিদারুল তাঁর স্ত্রীকে মারধর করতেন। ওসি বলেন, ‘আজ (শনিবার) দুপুরে ঝগড়ার একপর্যায়ে দিদারুল তাঁর স্ত্রীর কপাল, নাক ও বুক রড দিয়ে থেঁতলে দেন। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দিদারকে গ্রেপ্তার করেছি।’ জিন্নাতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। আজ রোববার ময়নাতদন্ত হবে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়। দিদারুল আলমকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাঁকে আজ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে বলে ডবলমুরিং থানার ওসি জানান।

No comments:

Post a Comment