শেয়ারবাজারে
বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। আস্থা ফেরাতে নানা উপশম বা প্রণোদনা দিয়েও
বাজারে প্রাণ ফেরানো যাচ্ছে না। এক দিন সূচক বাড়ে তো তিন দিন কমে। এ কারণে
বিশ্লেষকদের অনেকে এ বাজারকে ‘প্রাণহীন’ বাজার হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই
প্রাণহীন শেয়ারবাজারে আসতে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো
হসপিটাল। তবে সেটি শেয়ারবাজারের রোগ সারাতে নয়, প্রতিষ্ঠানটি আসছে
শেয়ারবাজার থেকে ব্যবসার অর্থ সংগ্রহে। প্রাথমিকভাবে শেয়ারবাজার থেকে ৭৫
কোটি টাকা পুঁজি সংগ্রহ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। যে টাকা ব্যয় করা হবে
চট্টগ্রামে অ্যাপোলো হসপিটালের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনে। এদিকে স্বাস্থ্য
খাতের একই ধরনের সেবা প্রতিষ্ঠান শমরিতা হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে এ বাজারে
রয়েছে। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে দেশের ব্যয়বহুল ও জটিল অনেক রোগের
উন্নত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো। এটি মূলত ভারতীয় একটি
ফ্র্যাঞ্চাইজি। ২০০৫ সালে এটিকে বাংলাদেশে এনেছিল এসটিএস হোল্ডিংস নামের
দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান। এসটিএস হোল্ডিংসই রয়েছে বাংলাদেশের অ্যাপোলো
হসপিটালের মূল মালিকানায়। ২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ধসের আগেও এসটিএস
হোল্ডিংস কোম্পানিটি বাজারে আসার উদ্যোগ নিয়েছিল। সে সময় স্থিরমূল্য বা
ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে কোম্পানিটি বাজারে শেয়ার ছাড়ার আবেদন করে। কিন্তু
শেষ পর্যন্ত সেই আবেদন আর আলোর মুখ দেখেনি। এখন প্রাণহীন বাজারে এসে
কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে প্রাণ ফেরাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারবে কি না, সেটিই
এখন অনেকের প্রশ্ন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন মোহাম্মদ মুসা প্রথম আলোকে বলেন,
‘দেশের মধ্যে অ্যাপোলো হসপিটালের বেশ সুনাম রয়েছে। আমি মনে করি কোম্পানিটির
মুনাফা করারও সক্ষমতা আছে। এখন বাজারে আসার পর কোম্পানিটির মুনাফার ভাগ
কতটা বিনিয়োগকারীদের হাতে পৌঁছাবে, সেটি ভবিষ্যতের বিষয়। তবে এ ধরনের
আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানি বাজারে এলে তাতে আরও অনেকে হয়তো শেয়ারবাজারের
প্রতি আগ্রহী হবেন।’ মোহাম্মদ মুসা এ-ও বলেছেন, নতুন কোনো কোম্পানি বাজারে
এলে সাময়িকভাবে বাজারের তারল্যের ওপর একধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তা
সত্ত্বেও বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে নতুন ও ভালো মানের কোম্পানি আনার কোনো
বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে
শেয়ারবাজার থেকে ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি। এ জন্য শেয়ারের
প্রাতিষ্ঠানিক দর প্রস্তাবের আগে আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে রোড শোর
আয়োজন করেছে। এ রোড শোতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সামনে প্রতিষ্ঠানটির
আর্থিক বিবরণীসহ নানা তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হবে। সেসব তথ্য-উপাত্তের
ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কোম্পানিটির শেয়ারের নির্দেশক মূল্য
বা ভিত্তিমূল্য নির্ধারণের দর প্রস্তাব করবে। কোম্পানিটি রোড শোতে বিতরণের
জন্য যে বিবরণীপত্র বা প্রসপেক্টাস তৈরি করেছে তাতে এটির শেয়ারপ্রতি প্রকৃত
সম্পদমূল্য বা এনএভি (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) দেখানো হয়েছে ৪৮ টাকা।
মার্চেন্ট ব্যাংক আইসিবি ক্যাপিটাল ও এএফসি ক্যাপিটাল যৌথভাবে কোম্পানিটির
শেয়ারের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি: সপ্তাহের
প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার দেশের শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। তবে এদিন
দুই বাজারেই লেনদেন আগের দিনের চেয়ে কমে গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক
এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল প্রায় ২২ পয়েন্ট বেড়েছে।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৪ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে
৩৯ কোটি টাকা কম। অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই)
সার্বিক সূচকটি বেড়েছে প্রায় ৬৮ পয়েন্ট। দিন শেষে সেখানকার বাজারে লেনদেনের
পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ কোটি টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা কম।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment